ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বরুড়ায় গণপূর্তমন্ত্রীকে আ. লীগ নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা: বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত শনিবার বরুড়ায় নিজ বাসভবনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান। অভিযোগ উঠেছে, শুভেচ্ছা জানানো এসব চেয়ারম্যানের প্রায় সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষ করে, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে নির্যাতিত বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় বরুড়ায় নিজ বাড়িতে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর জাকারিয়া তাহের সুমন নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এরপরই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন এসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

শুভেচ্ছা জানানো নেতাদের মধ্যে ছিলেন- বরুড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ঝলম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম; চিতড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া; ভাউকসার ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামান মাসুদ; শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ; লক্ষিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাসেম মিয়া; আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিঠু; পয়ালগাছা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহিন; আড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান বাদল মিয়া; আদ্রা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রাকিবুল হাসান লিমন; ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান; খোশবাস উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান; খোশবাস দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব এবং গালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়াসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। তারা সবাই কুমিল্লা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিউদ্দিন শামীমের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, “এরা সবাই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান। গত ১৭ বছর ধরে এদের অত্যাচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারেনি। যেসব নেতা অতীতে বিএনপির কর্মীদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এখন প্রকাশ্যে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পরও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং আত্মগোপনে যাওয়া আওয়ামী লীগ নতুন রূপে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আর তাদেরকে সহযোগিতা করছে বিএনপির কিছু নেতা।

আব্দুল হাকিম নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, “যেসব নেতা গত ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, মন্ত্রী এখন তাদের কাছ থেকেই ফুল নিচ্ছেন। এতে মনে হচ্ছে, সবাই মিলেমিশে সুবিধা ভাগাভাগি করছে, আর আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের অবস্থা বদলায় না।”

মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক বিএনপি নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, মন্ত্রী তাদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করেছেন।”

ওমর ফারুক রিপন নামে একজন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর ছবি পোস্ট করে মন্তব্য করেছেন, “রাজনীতি এমনই! কাছের মানুষ পর হয়, আর পর মানুষ আপন হয়।”

এ বিষয়ে জানতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

বরুড়ায় গণপূর্তমন্ত্রীকে আ. লীগ নেতাদের ফুলেল শুভেচ্ছা: বিএনপিতে তীব্র ক্ষোভ

আপডেট সময় : ১০:২১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদে দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ নির্বাচনী এলাকায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত শনিবার বরুড়ায় নিজ বাসভবনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান। অভিযোগ উঠেছে, শুভেচ্ছা জানানো এসব চেয়ারম্যানের প্রায় সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশেষ করে, বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে নির্যাতিত বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

জানা যায়, গত শনিবার সন্ধ্যায় বরুড়ায় নিজ বাড়িতে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের পর জাকারিয়া তাহের সুমন নবগঠিত মন্ত্রী পরিষদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। এরপরই তাকে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন এসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা।

শুভেচ্ছা জানানো নেতাদের মধ্যে ছিলেন- বরুড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ঝলম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম; চিতড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া; ভাউকসার ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামান মাসুদ; শিলমুড়ি দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ; লক্ষিপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাসেম মিয়া; আগানগর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মিঠু; পয়ালগাছা ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহিন; আড্ডা ইউপি চেয়ারম্যান বাদল মিয়া; আদ্রা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রাকিবুল হাসান লিমন; ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান; খোশবাস উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান; খোশবাস দক্ষিণ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব এবং গালিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়াসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। তারা সবাই কুমিল্লা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিউদ্দিন শামীমের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, “এরা সবাই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান। গত ১৭ বছর ধরে এদের অত্যাচারে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় থাকতে পারেনি। যেসব নেতা অতীতে বিএনপির কর্মীদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারাই এখন প্রকাশ্যে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এতে দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।”

তারা আরও অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের পরও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো মামলা বা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বরং আত্মগোপনে যাওয়া আওয়ামী লীগ নতুন রূপে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। আর তাদেরকে সহযোগিতা করছে বিএনপির কিছু নেতা।

আব্দুল হাকিম নামে এক বিএনপি কর্মী বলেন, “যেসব নেতা গত ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, মন্ত্রী এখন তাদের কাছ থেকেই ফুল নিচ্ছেন। এতে মনে হচ্ছে, সবাই মিলেমিশে সুবিধা ভাগাভাগি করছে, আর আমাদের মতো সাধারণ কর্মীদের অবস্থা বদলায় না।”

মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক বিএনপি নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে, মন্ত্রী তাদের কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করেছেন।”

ওমর ফারুক রিপন নামে একজন মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর ছবি পোস্ট করে মন্তব্য করেছেন, “রাজনীতি এমনই! কাছের মানুষ পর হয়, আর পর মানুষ আপন হয়।”

এ বিষয়ে জানতে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।