ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বিষবৃক্ষ: অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত, নেপথ্যে চার কারণ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য এক গুরুতর অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে। বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং আমানতকারীদের আস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই সংকটময় পরিস্থিতির জন্য চারটি মৌলিক কারণ চিহ্নিত করেছেন: দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ব্যাংক চেয়ারম্যান-ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) যোগসাজশ এবং উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারদের অদক্ষতা।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত ছিল। দেশের বেশ কিছু বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যারা ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ জামানত, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কিংবা নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে রাজনৈতিক প্রভাবে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলো নামে-বেনামে বিশাল অঙ্কের ঋণ সুবিধা ভোগ করেছে। ঋণের পরিশোধের সময় পেরিয়ে গেলেও তারা তা পরিশোধ করেনি। উল্টো বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তাদের খেলাপি হওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে, যা খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হতে শুরু করে। এর মধ্যে একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে। বিদেশি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পদের মান নির্ণয় করার পর এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটি ব্যাংকই ছিল একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। এই গ্রুপ এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ তুলে নিলেও তা এখন আর ফেরত দিচ্ছে না, যার ফলস্বরূপ বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখন ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়, তখন তা খেলাপি হওয়া অবশ্যম্ভাবী।”

ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) যোগসাজশে সংঘটিত ঋণ কেলেঙ্কারিও খেলাপি ঋণের বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অতীতে হলমার্ক কেলেঙ্কারি ঘিরে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, পদ্মা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং এননটেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ একাধিক ঘটনা ব্যাংকিং খাতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনায় দেখা গেছে, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনৈতিক যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ব্যাংকের ঋণ প্রস্তাবনা কিংবা অনুমোদন নিয়ে বোর্ডসভায় খুব কমই আলোচনা হতো। বোর্ডসভার আগের দিন রাতে কিংবা সভার দিন কার্যবিবরণী পরিচালকদের কাছে জমা দেওয়া হতো। বছরের পর বছর ধরে পরিচালকদের অন্ধকারে রেখে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক একক কর্তৃত্ববলে নামসর্বস্ব কোম্পানির নামে ঋণ অনুমোদন দেন। এ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অন্যদিকে, ২০১২ সালে এননটেক্স গ্রুপকে একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়। বারবার সুদ মওকুফ ও ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত সময় দেওয়া সত্ত্বেও গ্রাহক তা পরিশোধ করেননি। ঋণ আদায়ে ২০১৯ সালে মামলা করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হলেও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে একের পর এক সুদ মওকুফ করা হয়। ঋণ বিতরণ এবং বারবার সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যাংকিং নিয়মাচার লঙ্ঘন করা হয়েছে। ২০২২ সালের পর গ্রাহক এক টাকাও পরিশোধ করেননি, এমনকি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের টাকাও দেননি। এর পরও ঋণটিকে নিয়মিত দেখিয়ে গ্রাহককে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ অবারিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি মামলার প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত আদেশ দিয়েছে যে, যেসব কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা ও যোগসাজশের কারণে এননটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এত দেরি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতকে জানাতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির পাশাপাশি ঋণ পুনঃতফসিল ও অবলোপনের মতো সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় ঋণ পরিশোধে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে, যা খেলাপি ঋণের বৃদ্ধিতে ইন্ধন জুগিয়েছে। ২০০৯ সালে যখন একটি নির্দিষ্ট সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আলোকে ব্যাংক খাত পরিচালিত হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন নীতিগত শিথিলতা ও সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে কখনো ঋণ পরিশোধ না করেই নিয়মিত রাখা, নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পুনঃতফসিল করা কিংবা ভুয়া ঋণ দেখিয়ে দায় সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ দীর্ঘদিন চাপা পড়ে ছিল, যা এখন প্রকাশ পাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ভারতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বিষবৃক্ষ: অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত, নেপথ্যে চার কারণ

আপডেট সময় : ১০:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতির জন্য এক গুরুতর অশনিসংকেত হয়ে উঠেছে। বিতরণ করা মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় আর্থিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং আমানতকারীদের আস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এই সংকটময় পরিস্থিতির জন্য চারটি মৌলিক কারণ চিহ্নিত করেছেন: দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, ব্যাংক চেয়ারম্যান-ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) যোগসাজশ এবং উদ্যোক্তা ও ব্যাংকারদের অদক্ষতা।

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর ধরে ঋণ জালিয়াতিতে জড়িত ছিল। দেশের বেশ কিছু বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী, যারা ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ জামানত, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কিংবা নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ ছাড়াই বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে রাজনৈতিক প্রভাবে এই শিল্পগোষ্ঠীগুলো নামে-বেনামে বিশাল অঙ্কের ঋণ সুবিধা ভোগ করেছে। ঋণের পরিশোধের সময় পেরিয়ে গেলেও তারা তা পরিশোধ করেনি। উল্টো বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে তাদের খেলাপি হওয়া থেকে রক্ষা করা হয়েছে, যা খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, বিভিন্ন ব্যাংকের ঋণের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হতে শুরু করে। এর মধ্যে একীভূত হওয়া ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা গেছে। বিদেশি অডিট ফার্মের মাধ্যমে সম্পদের মান নির্ণয় করার পর এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায়। এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটি ব্যাংকই ছিল একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। এই গ্রুপ এসব ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ঋণ তুলে নিলেও তা এখন আর ফেরত দিচ্ছে না, যার ফলস্বরূপ বিপুল পরিমাণ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ঋণ খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, “যখন ঋণ বিতরণের সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া হয়, তখন তা খেলাপি হওয়া অবশ্যম্ভাবী।”

ব্যাংকের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) যোগসাজশে সংঘটিত ঋণ কেলেঙ্কারিও খেলাপি ঋণের বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অতীতে হলমার্ক কেলেঙ্কারি ঘিরে সোনালী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকের অনিয়ম, পদ্মা ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি এবং এননটেক্স গ্রুপের ঋণ জালিয়াতিসহ একাধিক ঘটনা ব্যাংকিং খাতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনায় দেখা গেছে, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনৈতিক যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল অঙ্কের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ব্যাংকের ঋণ প্রস্তাবনা কিংবা অনুমোদন নিয়ে বোর্ডসভায় খুব কমই আলোচনা হতো। বোর্ডসভার আগের দিন রাতে কিংবা সভার দিন কার্যবিবরণী পরিচালকদের কাছে জমা দেওয়া হতো। বছরের পর বছর ধরে পরিচালকদের অন্ধকারে রেখে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক একক কর্তৃত্ববলে নামসর্বস্ব কোম্পানির নামে ঋণ অনুমোদন দেন। এ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। অন্যদিকে, ২০১২ সালে এননটেক্স গ্রুপকে একক গ্রাহকের ঋণসীমা লঙ্ঘন করে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেওয়া হয়। বারবার সুদ মওকুফ ও ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত সময় দেওয়া সত্ত্বেও গ্রাহক তা পরিশোধ করেননি। ঋণ আদায়ে ২০১৯ সালে মামলা করার বাধ্যবাধকতা তৈরি হলেও আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে একের পর এক সুদ মওকুফ করা হয়। ঋণ বিতরণ এবং বারবার সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যাবতীয় ব্যাংকিং নিয়মাচার লঙ্ঘন করা হয়েছে। ২০২২ সালের পর গ্রাহক এক টাকাও পরিশোধ করেননি, এমনকি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের টাকাও দেননি। এর পরও ঋণটিকে নিয়মিত দেখিয়ে গ্রাহককে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ অবারিত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি একটি মামলার প্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত আদেশ দিয়েছে যে, যেসব কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলা ও যোগসাজশের কারণে এননটেক্স গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এত দেরি হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিয়ে আদালতকে জানাতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির পাশাপাশি ঋণ পুনঃতফসিল ও অবলোপনের মতো সুবিধা সহজলভ্য হওয়ায় ঋণ পরিশোধে এক ধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে, যা খেলাপি ঋণের বৃদ্ধিতে ইন্ধন জুগিয়েছে। ২০০৯ সালে যখন একটি নির্দিষ্ট সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক রীতিনীতির আলোকে ব্যাংক খাত পরিচালিত হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল ব্যবস্থা চালু করা হয়। এর পর থেকে বিভিন্ন নীতিগত শিথিলতা ও সংজ্ঞা পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। এক্ষেত্রে কখনো ঋণ পরিশোধ না করেই নিয়মিত রাখা, নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে পুনঃতফসিল করা কিংবা ভুয়া ঋণ দেখিয়ে দায় সমন্বয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ দীর্ঘদিন চাপা পড়ে ছিল, যা এখন প্রকাশ পাচ্ছে।