ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রমজানের শুরুতেই রাজশাহীর বাজারে আগুন: নিত্যপণ্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস নিম্ন ও মধ্যবিত্তের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই রাজশাহীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। মাসজুড়ে সংযমের সাধনার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গিয়ে রীতিমতো হতাশ হচ্ছেন রোজাদাররা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচের মতো সাধারণ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায়, পবিত্র মাসের শুরুর আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

শনিবার সকাল থেকে রাজশাহী নগরীর মাস্টারপাড়া, শালবাগান, খড়খড়ি, কাটাখালী, হড়গ্রাম ও মনি চত্বরের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চোখে পড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য উপকরণগুলোর দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৯০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে, শসাও ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৬০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। এছাড়া, টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

মাংসের বাজারেও কোনো সুখবর নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ১০০ টাকা বেড়ে ৫৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংস ৭৮০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে অপরিহার্য খেজুরের দামও চড়া। প্রতি কেজি মরিয়ম খেজুর ২০০ টাকা বেড়ে ১২০০ টাকা, মেডজুল ১৪০০ টাকা এবং দাবাস খেজুর ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বৃহত্তম কাঁচাবাজার মাস্টারপাড়ায় নিম্নআয়ের ক্রেতাদের চোখেমুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে। কেউ ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউবা অল্প কিছু পণ্য নিয়ে ফিরছেন, আবার অনেকে প্রায় খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে এলাম কিছু কিনব বলে, কিন্তু শসা-লেবুর দাম শুনে মাথা ঘুরে গেল। সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। আমাদের মতো গরিব মানুষ কী খেয়ে রোজা রাখবে?”

অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। আনোয়ার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, “রোজার শুরুতে প্রতি বছরই দাম বাড়ে, কিন্তু এবার যেন সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টকর। সরকারকে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে।”

তবে বিক্রেতারা মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরবরাহ কমকে দায়ী করছেন। পাইকারি বিক্রেতা জনি জানান, “আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমাদের মুনাফা বাড়েনি, উল্টো বাজার অস্থির হলে আমাদেরও লোকসান হয়।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু শুরু থেকেই যদি এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা চলতে থাকে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চরম সংকটে পড়বেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন জানান, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয়মূল্যের রসিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

রমজানের শুরুতেই রাজশাহীর বাজারে আগুন: নিত্যপণ্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস নিম্ন ও মধ্যবিত্তের

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই রাজশাহীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতারা। মাসজুড়ে সংযমের সাধনার প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গিয়ে রীতিমতো হতাশ হচ্ছেন রোজাদাররা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচের মতো সাধারণ সবজির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায়, পবিত্র মাসের শুরুর আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।

শনিবার সকাল থেকে রাজশাহী নগরীর মাস্টারপাড়া, শালবাগান, খড়খড়ি, কাটাখালী, হড়গ্রাম ও মনি চত্বরের বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চোখে পড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, বিশেষ করে ইফতারের অপরিহার্য উপকরণগুলোর দাম যেন আকাশ ছুঁয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া বেগুন এখন ৯০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে, শসাও ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৬০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। এছাড়া, টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৫০ টাকা এবং আলু ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং প্রতি হালি লেবু ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।

মাংসের বাজারেও কোনো সুখবর নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা এবং দেশি মুরগির দাম ১০০ টাকা বেড়ে ৫৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংস ৭৮০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমজানে অপরিহার্য খেজুরের দামও চড়া। প্রতি কেজি মরিয়ম খেজুর ২০০ টাকা বেড়ে ১২০০ টাকা, মেডজুল ১৪০০ টাকা এবং দাবাস খেজুর ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বৃহত্তম কাঁচাবাজার মাস্টারপাড়ায় নিম্নআয়ের ক্রেতাদের চোখেমুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ দেখা গেছে। কেউ ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউবা অল্প কিছু পণ্য নিয়ে ফিরছেন, আবার অনেকে প্রায় খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন একজন ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাজারে এলাম কিছু কিনব বলে, কিন্তু শসা-লেবুর দাম শুনে মাথা ঘুরে গেল। সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। আমাদের মতো গরিব মানুষ কী খেয়ে রোজা রাখবে?”

অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। আনোয়ার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, “রোজার শুরুতে প্রতি বছরই দাম বাড়ে, কিন্তু এবার যেন সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুবই কষ্টকর। সরকারকে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে।”

তবে বিক্রেতারা মূল্যবৃদ্ধির জন্য সরবরাহ কমকে দায়ী করছেন। পাইকারি বিক্রেতা জনি জানান, “আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে আমাদের মুনাফা বাড়েনি, উল্টো বাজার অস্থির হলে আমাদেরও লোকসান হয়।”

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু শুরু থেকেই যদি এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা চলতে থাকে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চরম সংকটে পড়বেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন জানান, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয়মূল্যের রসিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অনিয়ম পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।