ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন: উৎপাদন ছাড়াতে পারে সাড়ে ১২ লাখ টন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আলু উৎপাদনে বরাবরই দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া। চলতি মৌসুমে এ জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে, যা উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ১২ লাখ টন থাকলেও, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন সাড়ে ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভালো ফলন ও ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি চাষিরা, বাড়ছে আলু আবাদের জমিও। পেঁয়াজের মতো অস্থিরতা না দেখিয়ে সারা বছরই আলুর দাম থাকছে প্রায় স্থিতিশীল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বগুড়ায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ টন। তবে উচ্চ ফলনশীল জাতের আলুর ব্যবহার এবং জৈবসার প্রয়োগে কৃষকদের উৎসাহিত করার ফলে ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ফলন সাড়ে ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

ইতোমধ্যে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারে এসব আলু প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে পুরোদমে আলু তোলা শুরু হলেও এখনো অনেক জমিতে আলু রয়েছে, যা সতেজ অবস্থায় আছে। বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, ধুনট ও শেরপুর উপজেলার আলুর ক্ষেতগুলো এখনো সবুজ আর সতেজ।

বর্তমানে বগুড়ার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ আলু ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি। শহরের ফতেহ আলী বাজারের দোকানদার মামুন জানান, প্রতি কেজি পাকরী আলু ২৫ টাকা এবং রোমানা ও কার্ডিনাল জাতের আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আলু চাষে বগুড়ার ধারাবাহিক সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০১১-১২ মৌসুমে জেলায় ১১ লাখ সাত হাজার ২২৫ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এর পরের মৌসুমে (২০১২-১৩) ফলন দাঁড়ায় ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টনে। এরপর থেকে প্রতি বছরই আলুর ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার আলুচাষি রফিক ইসলাম জানান, এবার আলুগাছে কোল্ড ইনজুরি বা লেট ব্লাইট রোগের আক্রমণ হয়নি। জমির বেড বাঁধাইয়ের পর থেকে গাছগুলো বেশ লম্বা ও সতেজ হয়েছে, ডালপালাও ছড়িয়েছে ভালো। তিনি বলেন, ‘গত বছরও ভালো ফলন পেয়েছিলাম, এবারও ভালো ফলনের আশা করছি। ইতোমধ্যে কিছু আলু বাজারে বিক্রিও শুরু করেছি।’ আশোকোলা গ্রামের চাষি শুকু হোসেনও প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেন এবং এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। আমন ধান কাটতে কিছুটা দেরি হওয়ায় অনেক চাষি আলু আবাদে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন ফলন প্রত্যাশিত। তিনি আরও জানান, কৃষকরা আমন ধান কেটে জমি তৈরি করে আবারও আলু চাষে ঝুঁকছেন। যারা আগে আলু চাষ করেছেন, তারা ইতোমধ্যে কিছু আলু তুলেছেন। এখন পুরো আলুর মৌসুম চলছে, চাষিরা জমি থেকে আলু তুলে হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ আরও বলেন, বাজারে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০-৮০ দিনের মধ্যে আলু তুলতে হয়। তবে কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণের জন্য ৯০-৯৫ দিনের পরিপক্ক আলু প্রয়োজন। জেলার ৩৩টি কোল্ডস্টোরেজে দুই লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

বগুড়ায় আলুর বাম্পার ফলন: উৎপাদন ছাড়াতে পারে সাড়ে ১২ লাখ টন

আপডেট সময় : ১০:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আলু উৎপাদনে বরাবরই দেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র বগুড়া। চলতি মৌসুমে এ জেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে, যা উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা সোয়া ১২ লাখ টন থাকলেও, কৃষি কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলন সাড়ে ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ভালো ফলন ও ন্যায্য মূল্য পেয়ে খুশি চাষিরা, বাড়ছে আলু আবাদের জমিও। পেঁয়াজের মতো অস্থিরতা না দেখিয়ে সারা বছরই আলুর দাম থাকছে প্রায় স্থিতিশীল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বগুড়ায় আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৭৩৮ টন। তবে উচ্চ ফলনশীল জাতের আলুর ব্যবহার এবং জৈবসার প্রয়োগে কৃষকদের উৎসাহিত করার ফলে ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ পর্যন্ত ফলন সাড়ে ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

ইতোমধ্যে আগাম জাতের আলু উত্তোলন শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারে এসব আলু প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে পুরোদমে আলু তোলা শুরু হলেও এখনো অনেক জমিতে আলু রয়েছে, যা সতেজ অবস্থায় আছে। বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, সোনাতলা, ধুনট ও শেরপুর উপজেলার আলুর ক্ষেতগুলো এখনো সবুজ আর সতেজ।

বর্তমানে বগুড়ার বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতি মণ আলু ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেশি। শহরের ফতেহ আলী বাজারের দোকানদার মামুন জানান, প্রতি কেজি পাকরী আলু ২৫ টাকা এবং রোমানা ও কার্ডিনাল জাতের আলু ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আলু চাষে বগুড়ার ধারাবাহিক সাফল্য চোখে পড়ার মতো। ২০১১-১২ মৌসুমে জেলায় ১১ লাখ সাত হাজার ২২৫ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল। এর পরের মৌসুমে (২০১২-১৩) ফলন দাঁড়ায় ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ টনে। এরপর থেকে প্রতি বছরই আলুর ফলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকার আলুচাষি রফিক ইসলাম জানান, এবার আলুগাছে কোল্ড ইনজুরি বা লেট ব্লাইট রোগের আক্রমণ হয়নি। জমির বেড বাঁধাইয়ের পর থেকে গাছগুলো বেশ লম্বা ও সতেজ হয়েছে, ডালপালাও ছড়িয়েছে ভালো। তিনি বলেন, ‘গত বছরও ভালো ফলন পেয়েছিলাম, এবারও ভালো ফলনের আশা করছি। ইতোমধ্যে কিছু আলু বাজারে বিক্রিও শুরু করেছি।’ আশোকোলা গ্রামের চাষি শুকু হোসেনও প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেন এবং এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জানান।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ জানান, চলতি বছর ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। আমন ধান কাটতে কিছুটা দেরি হওয়ায় অনেক চাষি আলু আবাদে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, ৫৫ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন ফলন প্রত্যাশিত। তিনি আরও জানান, কৃষকরা আমন ধান কেটে জমি তৈরি করে আবারও আলু চাষে ঝুঁকছেন। যারা আগে আলু চাষ করেছেন, তারা ইতোমধ্যে কিছু আলু তুলেছেন। এখন পুরো আলুর মৌসুম চলছে, চাষিরা জমি থেকে আলু তুলে হাট-বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন।

উপপরিচালক আবুল কাশেম আযাদ আরও বলেন, বাজারে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য সাধারণত ৬০-৮০ দিনের মধ্যে আলু তুলতে হয়। তবে কোল্ডস্টোরেজে সংরক্ষণের জন্য ৯০-৯৫ দিনের পরিপক্ক আলু প্রয়োজন। জেলার ৩৩টি কোল্ডস্টোরেজে দুই লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণ করা সম্ভব।