ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খেলাপি ঋণের বোঝা: কাঠগড়ায় দেশের শীর্ষ চার শিল্পগোষ্ঠী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য দেশের চারটি বৃহৎ ও প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী – এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ এবং বসুন্ধরা গ্রুপকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে এবং এর বড় একটি অংশই আটকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে এই চার গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাদের খেলাপি ঋণের সমষ্টি দেশের মোট খেলাপি ঋণের একটি বৃহৎ অংশ। এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট, মূলধন ঘাটতি এবং নতুন বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রভাবশালী এসব গ্রুপের খেলাপি হওয়ার পেছনে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ায় শিথিলতা প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হয়, যা পরবর্তীতে আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া, ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের নামে বারবার সুযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ফেরত আসে না, বরং খেলাপি ঋণের পাহাড় আরও বাড়ে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ন রাখতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য। তাদের মতে, এসব প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা এবং ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে খেলাপি ঋণের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে। একই সঙ্গে, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে গড়িমসি করার সাহস না পায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলা: ভারতের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

খেলাপি ঋণের বোঝা: কাঠগড়ায় দেশের শীর্ষ চার শিল্পগোষ্ঠী

আপডেট সময় : ১০:০৫:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের জন্য দেশের চারটি বৃহৎ ও প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠী – এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, নাসা গ্রুপ এবং বসুন্ধরা গ্রুপকে মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট মহলের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যাংকগুলোর পাওনা খেলাপি ঋণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে এবং এর বড় একটি অংশই আটকে আছে হাতে গোনা কয়েকটি বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে এই চার গ্রুপের খেলাপি ঋণের পরিমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাদের খেলাপি ঋণের সমষ্টি দেশের মোট খেলাপি ঋণের একটি বৃহৎ অংশ। এর ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট, মূলধন ঘাটতি এবং নতুন বিনিয়োগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রভাবশালী এসব গ্রুপের খেলাপি হওয়ার পেছনে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদারকি এবং ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়ায় শিথিলতা প্রধান কারণ। অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বা যথাযথ যাচাই-বাছাই ব্যতিরেকে বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন করা হয়, যা পরবর্তীতে আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া, ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের নামে বারবার সুযোগ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ঋণের অর্থ ফেরত আসে না, বরং খেলাপি ঋণের পাহাড় আরও বাড়ে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণ্ন রাখতে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ অপরিহার্য। তাদের মতে, এসব প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করা এবং ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা না হলে খেলাপি ঋণের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে। একই সঙ্গে, ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধে গড়িমসি করার সাহস না পায়।