সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে একটি বিপ্লবী স্লোগান যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এখন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে সয়লাব। এই স্লোগানের ব্যাপক ব্যবহার একদিকে যেমন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছে, তেমনি এর নেপথ্যের কারণ এবং এর প্রকৃত অর্থ নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানটি ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় স্থান দখল করে আছে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় বিপ্লবী ভগৎ সিং এবং তাঁর সহযোদ্ধারা এই স্লোগানকে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক অদম্য প্রতীক হয়ে ওঠে। এর আক্ষরিক অর্থ ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’, যা মূলত বিদ্যমান ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানায়।
তবে, বর্তমানে এই স্লোগানটি কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে অথবা কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই নেটিজেনদের একাংশ এটিকে নিজেদের ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফেসবুকের পোস্ট, শেয়ার, ইনস্টাগ্রামের স্টোরি, এক্স-এর হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড এবং এমনকি টিকটকেও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ লেখা বা উচ্চারিত ভিডিও ক্লিপের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই নিজেদের প্রোফাইল পিকচার বা কভার ফটোতেও এই স্লোগান সংবলিত ছবি ব্যবহার করছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রবণতার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, সামাজিক অবিচার, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সুশাসনের অভাব অথবা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতি তীব্র অসন্তোষ – এসবই হয়তো এই বিপ্লবী স্লোগানের পুনঃজাগরণের অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। অনেক তরুণ এই স্লোগানকে বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন এবং এর মাধ্যমে নিজেদের হতাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন।
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের এমন ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদল এটিকে যুব সমাজের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ এবং সচেতনতার ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবলই একটি অনলাইন ট্রেন্ড অথবা ক্ষণস্থায়ী আবেগ হিসেবে দেখছেন, যার গভীর রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব সীমিত। তবে, ভার্চুয়াল জগৎ থেকে এই স্লোগান কতটা বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। এই স্লোগান একদিকে যেমন জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছে, তেমনি এটি কর্তৃপক্ষের কাছে জনগণের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি উপায় হিসেবেও কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 























