রাজধানীর যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোড সড়কে লেগুনা চালক নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য যে কোনো উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হোক না কেন, আমরা এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, যাত্রাবাড়ি-চিটাগাং রোডসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ দীর্ঘদিনের, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিভিন্ন সংস্থার নাম ব্যবহার করে গণপরিবহন চালকদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায়ের ঘটনা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এই ঘটনার ধারাবাহিকতায়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি বা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণের বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটার দিকে নুরে আলম ওরফে খায়রুল ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি বলেন, “একটি নতুন বাংলাদেশে এই ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
নিহত খায়রুল তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার ওপর নির্ভরশীল অসহায় পরিবার, ছোট্ট শিশু কন্যা এবং স্বজনদের আহাজারি এই হত্যাকাণ্ডকে কেবল একটি প্রাণহানি নয়, বরং একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নির্মম পরিসমাপ্তি হিসেবে তুলে ধরেছে। এ ধরনের ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার নিহত খায়রুলের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সরকারকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, দেশব্যাপী পরিবহনসহ সকল খাতে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলবাজির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























