ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আর রাজপথের প্রয়োজন নেই: শিক্ষামন্ত্রী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা খাতকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তাই দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষকদের আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না।

রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাজেটে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি পূরণ সম্ভব না হলেও, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ চলছে। একজন ব্যক্তি যেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা দুর্নীতি করি না এবং কাউকে করতেও দেব না।” শিক্ষা খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে দ্রুতই বিশেষ বৈঠক করা হবে বলে তিনি জানান।

সভায় উপস্থিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের পেশ করা লিখিত দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আমরা কোনো সাময়িক সমাধান চাই না, বরং আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে চাই, যাতে শিক্ষকদের বারবার একই দাবিতে আন্দোলনে নামতে না হয়। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও শ্রেণিকক্ষে তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়াসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাহাঙ্গীর হত্যা: কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন

শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে আর রাজপথের প্রয়োজন নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিক্ষকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষা খাতকে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তাই দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষকদের আর রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না।

রোববার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাজেটে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবিগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে। নতুন বাজেটে অনেক বিষয় অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সব দাবি পূরণ সম্ভব না হলেও, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি ও গভর্নিং বডিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ চলছে। একজন ব্যক্তি যেন একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি) প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা দুর্নীতি করি না এবং কাউকে করতেও দেব না।” শিক্ষা খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া শিক্ষকদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের আর্থিক সংকট নিরসনে দ্রুতই বিশেষ বৈঠক করা হবে বলে তিনি জানান।

সভায় উপস্থিত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের পেশ করা লিখিত দাবিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। আমরা কোনো সাময়িক সমাধান চাই না, বরং আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে চাই, যাতে শিক্ষকদের বারবার একই দাবিতে আন্দোলনে নামতে না হয়। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও শ্রেণিকক্ষে তাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়াসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষা খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়।