কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা। আবাসিক হলে সিট দখলকে কেন্দ্র করে নিজ দলের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমান কমিটিকে ‘অছাত্র ও বয়স্কদের’ আস্তানা হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘আদুভাই’ কমিটি হিসেবে অভিহিত করেছেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি আবাসিক হলে সিট দখল ও বহিরাগতদের প্রবেশ করানো নিয়ে শাখা ছাত্রদলের দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়কের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী নিজ সংগঠনেরই কর্মীদের ওপর চড়াও হন। এই হামলায় অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ নিবিড়সহ অন্তত তিনজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজনের নাক ফেটে যায় এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হয়।
এই হামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল অভিযুক্ত নেতা আতিকুর রহমানের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করে। তবে এই শাস্তিকে ‘লোকদেখানো’ ও ‘দায়সারা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ভুক্তভোগী ও সাধারণ কর্মীরা। হামলার শিকার তোফায়েল আহমেদ নিবিড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বর্তমান কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে লিখেন, “ক্যাম্পাসে আদুভাই দেখলেই সবাই প্রতিবাদ করবেন।” তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সংসদ হামলার প্রকৃত বিচার না করে কেবল দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালের জুনে ঘোষিত কুবি শাখা ছাত্রদলের ৩১ সদস্যের এই আহ্বায়ক কমিটির অধিকাংশ নেতারই বর্তমানে নিয়মিত ছাত্রত্ব নেই। ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এখনো শীর্ষ পদে আসীন থাকায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ছিল। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ১৯টি ব্যাচ সক্রিয় থাকলেও অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্বে থাকায় ‘আদুভাই’ তকমাটি জোরালো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পদ ধরে রাখতে কেউ কেউ সান্ধ্যকালীন কোর্সে ভর্তি হয়ে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রেখেছেন।
সংগঠনের কর্মী মামুন রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অছাত্র নেতাদের হাতে রানিং স্টুডেন্টরা মার খাচ্ছে। আমরা কি তবে আগের সেই অপরাজনীতির সংস্কৃতিতেই ফিরে যাচ্ছি? ছাত্রদল করবে নিয়মিত ছাত্ররা, কিন্তু এখানে হচ্ছে উল্টো।” জহিরুল ইসলাম জয় নামে আরেক কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা কোনো সুস্থ ছাত্র রাজনীতির অংশ হতে পারে না।
হামলার শিকার শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের তোফায়েল আহমেদ নিবিড় এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সৌরভ কাব্য। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তরিকুলসহ কয়েকজন।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সংসদ ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, এটি ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ হতে পারে, কিন্তু দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত নয়। দলের চেইন অফ কমান্ড অনুযায়ীই সব পরিচালিত হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে এমন অস্থিরতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























