নাটোরের লালপুর উপজেলায় মোবাইল ফোন ব্যবহারকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে অর্পিতা রানী কর্মকার সিঁথি (১৮) নামের এক গৃহবধূ নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার জৌতদৈবকী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত অর্পিতা রানী সিঁথি একই গ্রামের জগাই কর্মকারের স্ত্রী। তার বাবার নাম অসীম কর্মকার, বাড়ি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর মিস্ত্রি পাড়ায়। প্রায় দুই বছর আগে জগাই কর্মকারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জগাই পেশায় একজন চা দোকানি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাম্পত্য জীবনে অর্পিতার মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। শুক্রবার দুপুরে আবারও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিমান করে অর্পিতা নিজের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অর্পিতাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত অর্পিতার স্বামী জগাই কর্মকার দাবি করেন, তার স্ত্রী অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করায় সংসারের কাজে প্রায়শই অবহেলা করতেন। ঘটনার দিন তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিলে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলে অর্পিতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানান, অর্পিতার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 























