মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভাবনা: পর্যটন ও কৃষিতে আশার আলো, তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে পর্যটন এবং কৃষির অপার সম্ভাবনাকে বিজ্ঞজনেরা বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। এছাড়াও, কিছু দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় বিপুল খনিজ সম্পদের প্রাপ্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিগত সরকারের সময়ে কিছু বিশ্লেষক পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পূর্ব সীমান্তে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের বিরাট সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছিলেন। তবে, উল্লিখিত সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবতার নিরিখে আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পর্যটন একটি অত্যন্ত লাভজনক সেবা খাত এবং এতে ব্যাপক সংখ্যক দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর দক্ষতা সীমিত পর্যায়ে থাকায়, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে দ্রুত বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রশ্নাতীত হলেও, এই সৌন্দর্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন শিল্প হিসেবে বিকাশে এবং এর কার্যকর বিপণনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাত নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো উপাদান সীমিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে দুটি পর্বতশ্রেণি উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, যা এ অঞ্চলের আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এই পর্বতশ্রেণিগুলোর গড় উচ্চতা হাজার ফুটেরও বেশি। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার অধিকাংশ ভূমি জাতীয় সম্পত্তি। কিছু নদী উপত্যকা তৈরি করলেও, সমতল ভূমির পরিমাণ পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট ভূমির এক-দশমাংশও নয়। এর মধ্যে বৃহত্তম কর্ণফুলী নদী অববাহিকার উপত্যকা বর্তমানে একটি হ্রদের অংশ। প্রকৃতপক্ষে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কি পরিমাণ ভূমি কৃষিকাজের জন্য উপযোগী, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির কত অংশ কৃষির জন্য ব্যবহারযোগ্য তা নির্ধারণ না করেই, কৃষির উৎপাদনশীলতা নিয়ে অতি আশাবাদের আলোকে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণমূলক কর্মসূচি পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষির সম্ভাবনা থাকলেও, তা নির্ভর করে সঠিক পরিকল্পনা, ভূমি জরিপ এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের উপর।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদী সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন সম্ভাবনা: পর্যটন ও কৃষিতে আশার আলো, তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জরুরি

আপডেট সময় : ০৪:০৬:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে পর্যটন এবং কৃষির অপার সম্ভাবনাকে বিজ্ঞজনেরা বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। এছাড়াও, কিছু দূরদৃষ্টিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞের মতে, এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় বিপুল খনিজ সম্পদের প্রাপ্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিগত সরকারের সময়ে কিছু বিশ্লেষক পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পূর্ব সীমান্তে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে এ অঞ্চলের বিরাট সম্ভাবনার কথা শুনিয়েছিলেন। তবে, উল্লিখিত সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো বাস্তবতার নিরিখে আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পর্যটন একটি অত্যন্ত লাভজনক সেবা খাত এবং এতে ব্যাপক সংখ্যক দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীর দক্ষতা সীমিত পর্যায়ে থাকায়, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে দ্রুত বেকারত্ব দূর করা সম্ভব। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রশ্নাতীত হলেও, এই সৌন্দর্যকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন শিল্প হিসেবে বিকাশে এবং এর কার্যকর বিপণনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত পর্যটনের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করা বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা প্রশ্নবিদ্ধ। কারণ, একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পর্যটন খাত নিয়ে আশাবাদী হওয়ার মতো উপাদান সীমিত।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে দুটি পর্বতশ্রেণি উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, যা এ অঞ্চলের আনুমানিক এক-তৃতীয়াংশ এলাকা জুড়ে অবস্থিত। এই পর্বতশ্রেণিগুলোর গড় উচ্চতা হাজার ফুটেরও বেশি। অবশিষ্ট দুই-তৃতীয়াংশ এলাকার অধিকাংশ ভূমি জাতীয় সম্পত্তি। কিছু নদী উপত্যকা তৈরি করলেও, সমতল ভূমির পরিমাণ পার্বত্য চট্টগ্রামের মোট ভূমির এক-দশমাংশও নয়। এর মধ্যে বৃহত্তম কর্ণফুলী নদী অববাহিকার উপত্যকা বর্তমানে একটি হ্রদের অংশ। প্রকৃতপক্ষে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কি পরিমাণ ভূমি কৃষিকাজের জন্য উপযোগী, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা করা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমির কত অংশ কৃষির জন্য ব্যবহারযোগ্য তা নির্ধারণ না করেই, কৃষির উৎপাদনশীলতা নিয়ে অতি আশাবাদের আলোকে অপরিকল্পিত সম্প্রসারণমূলক কর্মসূচি পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে কৃষির সম্ভাবনা থাকলেও, তা নির্ভর করে সঠিক পরিকল্পনা, ভূমি জরিপ এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের উপর।