চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক বিতর্কিত ব্যক্তির কাছে কেক পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা বলছেন, যে ব্যক্তিকে ওসি কেক পাঠিয়েছেন, তিনি একসময় প্রকাশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণের দিন এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
মূলত, সম্প্রতি একটি পত্রিকার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সীতাকুণ্ড থানার ওসি মহিনুল ইসলাম ফোরকান আবু নামের ওই ব্যক্তির কাছে কেক পাঠান বলে অভিযোগ। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র এবং বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উপজেলা শহীদ মিনারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে ফোরকান আবু মাইকে তারেক রহমানের জন্মপরিচয় নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। সেই সময় এই মন্তব্য ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিলেও, স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মামলা-হামলার ভয়ে তারা কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। সেই ঘটনার রেশ এখনও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মনে রয়ে গেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর গণমাধ্যমকে বলেন, “ফোরকান আবু অতীতে উপজেলা পরিষদের একটি সভায় প্রকাশ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও আমাদের নেতাকর্মীদের মনে গেঁথে আছে।”
সীতাকুণ্ড পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য ইউসুফ নিজামীও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, “ফোরকান আবুর বিতর্কিত বক্তব্য সীতাকুণ্ডবাসীর কাছে সর্বজনবিদিত। এমন একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও এমন ব্যক্তির প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন সত্যিই প্রশ্নবিদ্ধ।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মহিনুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তিনি বলেন, “এটি একটি পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক পাঠানো হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বিশেষকে উদ্দেশ্য করে নয়। অন্য কোনো সাংবাদিক চাইলে তাকেও দেওয়া হবে।”
তবে, বিএনপি নেতাদের পাল্টা দাবি, কেক গ্রহণের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তি ফোরকান আবুই সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এ কারণে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























