ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইন ও আচরণবিধি সংস্কারে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রধান নির্বাচন সংস্থা, নির্বাচন কমিশন (ইসি), স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন নির্বাচন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও আচরণবিধিমালা সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রমজান মাসজুড়ে এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং কমিশনের আসন্ন সভায় এটি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যমান আইনের জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)-এর মেয়াদ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। এই নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যদিও আইনি বাধ্যবাধকতার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, তবুও কমিশন তাদের সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। একইভাবে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এই নির্বাচনগুলো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এই দুটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর কমিশন কাজ শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে, দেশে বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম— এই তিনটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আগামী কোরবানির ঈদের আগেই সম্পন্ন করতে হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন কমিশন রমজান মাসজুড়ে সিটি কর্পোরেশনের আইন ও আচরণবিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। কোথায় সংশোধনী আনা হবে এবং কী পরিবর্তন আনা হবে, তা একটি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করে, সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন, যা নির্বাচনি সহিংসতা কমাতে সহায়ক হয়েছে। এই ধরনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে সিটি নির্বাচনের আইন ও বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, স্থানীয় সরকারের জন্য একটি অভিন্ন আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের ব্যাপারেও কমিশন চিন্তাভাবনা করছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক পৃথক বিধান রয়েছে। এই ভিন্নতার কারণে প্রার্থীদের অপরাধ একই হলেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অসুবিধায় পড়তে হয়। এই সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চসিক— এই তিনটি সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ শাখা ইতোমধ্যে ফাইলপত্রের কাজ শুরু করেছে। এই সপ্তাহে কমিশনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ঈদের পর তফসিল ঘোষণা হবে নাকি আগে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। তবে, তিনটি নির্বাচনই আগামী কোরবানির ঈদের আগে অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নিশ্চিত করেছেন।

বাকি সিটি নির্বাচনগুলো আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হলেও আইনের ব্যত্যয় হবে না। চসিক-এর পর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত। এরপর কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী বছরের ৬ জুলাই। রংপুর, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২০২৮ সালে। এছাড়াও, স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও শূন্য বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের তফসিল রমজান মাসের মধ্যে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে রক্তাক্ত ৪৮ ঘণ্টা: সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন নিহত

সিটি করপোরেশন নির্বাচন আইন ও আচরণবিধি সংস্কারে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের প্রধান নির্বাচন সংস্থা, নির্বাচন কমিশন (ইসি), স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন নির্বাচন সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও আচরণবিধিমালা সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রমজান মাসজুড়ে এই সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং কমিশনের আসন্ন সভায় এটি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে। কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য এই সংস্কারগুলো অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যমান আইনের জটিলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)-এর মেয়াদ আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। এই নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যদিও আইনি বাধ্যবাধকতার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, তবুও কমিশন তাদের সুবিধাজনক সময়ে এই নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে। একইভাবে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এই নির্বাচনগুলো আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এই দুটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার পর কমিশন কাজ শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে, দেশে বর্তমানে ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম— এই তিনটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন আগামী কোরবানির ঈদের আগেই সম্পন্ন করতে হবে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন কমিশন রমজান মাসজুড়ে সিটি কর্পোরেশনের আইন ও আচরণবিধি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে। কোথায় সংশোধনী আনা হবে এবং কী পরিবর্তন আনা হবে, তা একটি কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন মনে করে, সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে রাজনৈতিক দল সমর্থিত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সুষ্ঠুভাবে প্রচারণা চালিয়েছেন, যা নির্বাচনি সহিংসতা কমাতে সহায়ক হয়েছে। এই ধরনের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাকে সিটি নির্বাচনের আইন ও বিধিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া, স্থানীয় সরকারের জন্য একটি অভিন্ন আচরণ বিধিমালা প্রণয়নের ব্যাপারেও কমিশন চিন্তাভাবনা করছে। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য পৃথক পৃথক বিধান রয়েছে। এই ভিন্নতার কারণে প্রার্থীদের অপরাধ একই হলেও ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে অসুবিধায় পড়তে হয়। এই সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চসিক— এই তিনটি সিটি নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশন মন্ত্রণালয়ের চিঠি পেয়েছে এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা-২ শাখা ইতোমধ্যে ফাইলপত্রের কাজ শুরু করেছে। এই সপ্তাহে কমিশনের একটি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ঈদের পর তফসিল ঘোষণা হবে নাকি আগে হবে, তা নির্ধারণ করা হবে। তবে, তিনটি নির্বাচনই আগামী কোরবানির ঈদের আগে অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার নিশ্চিত করেছেন।

বাকি সিটি নির্বাচনগুলো আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হলেও আইনের ব্যত্যয় হবে না। চসিক-এর পর নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে চলতি বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৩ মার্চ পর্যন্ত। এরপর কুমিল্লা সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে আগামী বছরের ৬ জুলাই। রংপুর, গাজীপুর, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২০২৮ সালে। এছাড়াও, স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও শূন্য বগুড়া-৬ উপনির্বাচনের তফসিল রমজান মাসের মধ্যে ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।