ঢাকা ০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এজেন্ট হওয়ায় মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় হেসাখাল খামার পাড়া মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আব্দুল আলিম ভূইয়াকে (৫৮) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্যানুসারে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি এবং হেসাখাল গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ইমাম আব্দুল আলিমকে চাকরিচ্যুত করেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসা আব্দুল আলিম গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেসাখাল বাজার ভোটকেন্দ্রের মহিলা বুথে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। এই ঘটনার জেরেই তাকে ইমামতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

মসজিদ কমিটিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পদ না থাকলেও, জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইমামকে অপসারণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

চাকরিচ্যুত ইমাম হাফেজ আব্দুল আলিম ভূইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, “জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লার এজেন্টের দায়িত্ব পালন করায় আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এখন রমজান মাস, এ সময়ে নতুন করে কোথাও চাকরি পাওয়া কঠিন। নির্বাচনের দিন আমি দুইজনকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।”

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম বলেন, “গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়েদ হোসেন মজুমদারের কথাও শোনেননি।”

উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এস এম মহিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ইমামকে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তাকে সসম্মানে পুনর্বহাল করা হলে পরিবারটি উপকৃত হবে।”

অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে। আলেম-ওলামারা জাতির পথপ্রদর্শক। নাঙ্গলকোট-লালমাই এলাকায় তাদের কোনোভাবে হয়রানি করা উচিত নয়।”

এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মস্থলে মর্মান্তিক পরিণতি: আনোয়ারায় মাচা ধসে ২ নির্মাণ শ্রমিক নিহত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এজেন্ট হওয়ায় মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ, এলাকায় চাঞ্চল্য

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় হেসাখাল খামার পাড়া মজুমদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আব্দুল আলিম ভূইয়াকে (৫৮) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিযোগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের তথ্যানুসারে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর উপজেলা শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি এবং হেসাখাল গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার ইমাম আব্দুল আলিমকে চাকরিচ্যুত করেন। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই মসজিদে ইমামতি করে আসা আব্দুল আলিম গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেসাখাল বাজার ভোটকেন্দ্রের মহিলা বুথে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন। এই ঘটনার জেরেই তাকে ইমামতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

মসজিদ কমিটিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পদ না থাকলেও, জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার তার দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইমামকে অপসারণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।

চাকরিচ্যুত ইমাম হাফেজ আব্দুল আলিম ভূইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, “জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লার এজেন্টের দায়িত্ব পালন করায় আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বল্প বেতনে চাকরি করি। এখন রমজান মাস, এ সময়ে নতুন করে কোথাও চাকরি পাওয়া কঠিন। নির্বাচনের দিন আমি দুইজনকে নামাজ পড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।”

এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার পরও কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাফফার হোসেন সেলিম বলেন, “গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার আমার ওপর হামলার চেষ্টা করেন। তিনি মসজিদ কমিটির সভাপতি ওবায়েদ হোসেন মজুমদারের কথাও শোনেননি।”

উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এস এম মহিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ইমামকে মসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। তাকে সসম্মানে পুনর্বহাল করা হলে পরিবারটি উপকৃত হবে।”

অন্যদিকে, কুমিল্লা-১০ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে। আলেম-ওলামারা জাতির পথপ্রদর্শক। নাঙ্গলকোট-লালমাই এলাকায় তাদের কোনোভাবে হয়রানি করা উচিত নয়।”

এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেছেন।