একসময়ের দাপুটে মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার রাজনৈতিক জীবনে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের জন্মভূমি লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে লড়ে তিনি শুধু পরাজিতই হননি, রীতিমতো ধস নেমেছে তার ভোটব্যাংকে। চতুর্থ অবস্থানে থেকে তিনি হারিয়েছেন নির্বাচনী জামানত।
স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাঙ্গার এই ভরাডুবির পেছনে কাজ করেছে বেশ কয়েকটি নেতিবাচক ইস্যু। নির্বাচনের ঠিক আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে এক কোটি সত্তর লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হয়। এই অর্থ কেলেঙ্কারি তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে।
এছাড়াও, নিজের জন্মস্থান হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরিবর্তে একাধিক দেহরক্ষী নিয়ে ‘জমিদারি’ কায়দায় প্রচার চালানো ভোটারদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং পরিবহন খাতে তার বিতর্কিত ভূমিকার কারণে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী জনমনে তার প্রতি তীব্র অনাস্থা তৈরি হয়। জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার, পরবর্তীতে ক্ষমা চেয়ে দলে ফেরা এবং বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করাকেও ভোটাররা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেননি।
লালমনিরহাট-১ আসনে এবারের লড়াই মূলত দ্বিমুখী ছিল। বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, বিজয়ী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান রাজিব প্রধান ১,৩৮,৬৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. আনোয়ারুল ইসলাম রাজু (জামায়াতে ইসলামী) পেয়েছেন ১,২৯,৫৭২ ভোট। শিহাব আহমেদ (স্বতন্ত্র – ঘোড়া) প্রতীকে ৭,৯৫৯ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। আর মসিউর রহমান রাঙ্গা (জাতীয় পার্টি) লাঙ্গল প্রতীকে মাত্র ৫,১৫২ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মোট কাস্টিং ভোটের নির্দিষ্ট অংশ না পাওয়ায় রাঙ্গার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
মসিউর রহমান রাঙ্গা ২০১৪ সালে রংপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় পার্টির মহাসচিবের দায়িত্ব পান। তবে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যাওয়ার পর থেকেই তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ভাটা পড়তে শুরু করে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ মোট চারটি মামলাও হয়েছে।
নিজের ভরাডুবির বিষয়ে সোমবার বিকেলে মসিউর রহমান রাঙ্গার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি হতাশা মেশানো কণ্ঠে বলেন, “নির্বাচনের ব্যাপারে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। গত ১৭ বছর এমপি ছিলাম, মন্ত্রী ছিলাম, আমার আর নতুন করে কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই।”
রিপোর্টারের নাম 




















