ঢাকা ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

দলীয় পরিচয় বদলেও শেষ রক্ষা হয়নি নীলফামারীর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের: হত্যা ও নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক কৃষক লীগ নেতা হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একাধিক হত্যা ও নাশকতার মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় পরিচয় বদলানোর চেষ্টার পরও তিনি শেষ রক্ষা পাননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, হেদায়েত আলী শাহ ফকির পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন এবং কেন্দ্রজুড়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার উৎসবে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন।

২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যাকাণ্ডেও হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই সেসময় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন।

চলতি বছরের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময়, গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। গত ৫ আগস্ট সাবেক সরকারপ্রধান দেশত্যাগের পর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরসহ পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন দলের অভিযুক্ত বেশ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়।

হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাসমূহের মধ্যে রয়েছে— রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি হত্যা মামলা (এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-৩২০/২৪, সদর থানা), ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলা (এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-২৬৯/২৪, সদর থানা) এবং ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা (জিআর-২৬৭/২৪, সদর থানা)। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-মার্কিন সংঘাত: যুদ্ধ সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে, জানালেন ট্রাম্প

দলীয় পরিচয় বদলেও শেষ রক্ষা হয়নি নীলফামারীর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের: হত্যা ও নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক কৃষক লীগ নেতা হেদায়েত আলী শাহ ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একাধিক হত্যা ও নাশকতার মামলার পলাতক আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পুলিশের নজরদারিতে ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে ইটাখোলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দলীয় পরিচয় বদলানোর চেষ্টার পরও তিনি শেষ রক্ষা পাননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, হেদায়েত আলী শাহ ফকির পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধীদলীয় এজেন্টদের ওপর হামলা চালিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের করে দেন এবং কেন্দ্রজুড়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারার উৎসবে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বহু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেন।

২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর নীলফামারী সদরের রামগঞ্জ বাজার এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত ও ভয়াবহ ‘রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি’ হত্যাকাণ্ডেও হেদায়েত আলী শাহ ফকির প্রত্যক্ষ সহযোগী ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে আসামি করে বছরের পর বছর জেল, রিমান্ড ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। অনেকেই সেসময় বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হন।

চলতি বছরের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময়, গত ৪ আগস্ট ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের ঘটনায়ও তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন জেলা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি, রাজনৈতিক কার্যালয় ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। গত ৫ আগস্ট সাবেক সরকারপ্রধান দেশত্যাগের পর হেদায়েত আলী শাহ ফকিরসহ পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন দলের অভিযুক্ত বেশ কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়।

হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাসমূহের মধ্যে রয়েছে— রামগঞ্জ ট্র্যাজেডি হত্যা মামলা (এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-৩২০/২৪, সদর থানা), ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলা মামলা (এজাহারনামীয় আসামি, মামলা নং জিআর-২৬৯/২৪, সদর থানা) এবং ৪ আগস্ট জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা (জিআর-২৬৭/২৪, সদর থানা)। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অন্যান্য সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাকে আদালতে হাজির করে জেল হাজতে পাঠানো হবে।