ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

দুই শপথের দাবিতে অনড় জামায়াত, সংসদ ভবনে জটিলতা নিরসনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৫৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য (এমপি) পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, দুটি শপথ একসাথেই হতে হবে, অন্যথায় তারা কোনো শপথই নেবেন না। এই দাবিকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের ভেতরে এক ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন। তবে তারা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন।

বিএনপির এই অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি এখনো বর্তমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, “গণভোটের রায় অনুযায়ী এই পরিষদ গঠিত হলেও এর শপথের বিষয়ে সংবিধানে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। কে এই শপথ পাঠ করাবেন, সেটিও নির্ধারিত নয়। আমরা সংবিধান মেনে পথ চলছি এবং আইনি অস্পষ্টতার কারণে এই মুহূর্তে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাওয়া ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নবনির্বাচিত এমপিরা সংসদ ভবনে অবস্থান করছেন। দুপুর ১২টায় তাদের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও ‘দুই শপথের’ দাবিতে অনড় থাকায় সেখানে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত এই জটিলতা কাটাতে সংসদ ভবনের ভেতরেই বিএনপি, জামায়াত এবং বিদায়ী সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই দুই মিত্র দলের ভিন্নধর্মী অবস্থান সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর আগেই নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওয়াসা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের নতুন কমিটি: সভাপতি মনিরুজ্জামান, সম্পাদক নূর

দুই শপথের দাবিতে অনড় জামায়াত, সংসদ ভবনে জটিলতা নিরসনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক

আপডেট সময় : ১১:৫৭:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য (এমপি) পদের পাশাপাশি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও শপথ নিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন। তাদের দাবি, দুটি শপথ একসাথেই হতে হবে, অন্যথায় তারা কোনো শপথই নেবেন না। এই দাবিকে কেন্দ্র করে সংসদ ভবনের ভেতরে এক ধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার দিকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোটের এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন। তবে তারা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবেই শপথ নিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ থেকে বিরত ছিলেন।

বিএনপির এই অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যা করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি এখনো বর্তমান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, “গণভোটের রায় অনুযায়ী এই পরিষদ গঠিত হলেও এর শপথের বিষয়ে সংবিধানে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। কে এই শপথ পাঠ করাবেন, সেটিও নির্ধারিত নয়। আমরা সংবিধান মেনে পথ চলছি এবং আইনি অস্পষ্টতার কারণে এই মুহূর্তে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে যাওয়া ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির নবনির্বাচিত এমপিরা সংসদ ভবনে অবস্থান করছেন। দুপুর ১২টায় তাদের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও ‘দুই শপথের’ দাবিতে অনড় থাকায় সেখানে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত এই জটিলতা কাটাতে সংসদ ভবনের ভেতরেই বিএনপি, জামায়াত এবং বিদায়ী সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিএনপি। অন্যদিকে, ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই দুই মিত্র দলের ভিন্নধর্মী অবস্থান সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর আগেই নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।