ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

সংসদে বিএনপির নতুন অধ্যায়: শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠক, সন্ধ্যায় তারেকের নেতৃত্বে সরকার গঠন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর সংসদ ভবনেই বসেছে তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক। আজই বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে, যার মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে দলটি। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে বেলা ১১টার পর সংসদ ভবনের ভেতরেই নিজেদের প্রথম সংসদীয় দলের বৈঠকে মিলিত হন বিএনপি নেতারা।

বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। প্রায় দুই দশক ধরে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির পর ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে দলটি। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ করার প্রায় ২০ বছর পর তাঁর পুত্র তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। এবারের ভূমিধস বিজয়ের মূল কারিগর হিসেবে তাঁকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগেও ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সংসদীয় দলের এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচনের পাশাপাশি উপনেতা (মন্ত্রী মর্যাদার), চিফ হুইপ এবং ছয়জন হুইপ নির্বাচন করার কথা রয়েছে। সংসদ উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া, বৈঠকে জোটের শরিক তিন এমপি – বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিনজনকে মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে, এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমান পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম-২ আসনের বিজয়ী সারোয়ার আলমগীর এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর ঋণখেলাপির বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।

এদিকে, বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া জামায়াত জোটও তাদের সংসদীয় দলের সভায় শরিকদের আমন্ত্রণ জানাবে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ এবং হুইপ নির্বাচন করা হবে। উল্লেখ্য, বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করে থাকেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন বিধ্বস্ত

সংসদে বিএনপির নতুন অধ্যায়: শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠক, সন্ধ্যায় তারেকের নেতৃত্বে সরকার গঠন

আপডেট সময় : ১১:৩১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর সংসদ ভবনেই বসেছে তাদের সংসদীয় দলের বৈঠক। আজই বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে, যার মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে দলটি। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। শপথ গ্রহণ শেষে বেলা ১১টার পর সংসদ ভবনের ভেতরেই নিজেদের প্রথম সংসদীয় দলের বৈঠকে মিলিত হন বিএনপি নেতারা।

বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। প্রায় দুই দশক ধরে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতির পর ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে দলটি। ২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ করার প্রায় ২০ বছর পর তাঁর পুত্র তারেক রহমান আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন। এবারের ভূমিধস বিজয়ের মূল কারিগর হিসেবে তাঁকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগেও ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।

সংসদীয় দলের এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচনের পাশাপাশি উপনেতা (মন্ত্রী মর্যাদার), চিফ হুইপ এবং ছয়জন হুইপ নির্বাচন করার কথা রয়েছে। সংসদ উপনেতা হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া, বৈঠকে জোটের শরিক তিন এমপি – বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই তিনজনকে মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

সদ্য অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ২০৯ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। তবে, এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন থেকে তারেক রহমান পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম-২ আসনের বিজয়ী সারোয়ার আলমগীর এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরীর ঋণখেলাপির বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।

এদিকে, বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া জামায়াত জোটও তাদের সংসদীয় দলের সভায় শরিকদের আমন্ত্রণ জানাবে। সেখানে বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ এবং হুইপ নির্বাচন করা হবে। উল্লেখ্য, বিরোধীদলীয় নেতা মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করে থাকেন।