বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিকশা প্রতীকে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তার নেতৃত্বে একটি দায়িত্বশীল ও জনমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ প্রত্যাশা করেছে দলটি। তবে, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে ঢাকা-১৩ (মুহাম্মাদপুর–আদাবর–শেরেবাংলা নগর) আসনের নির্বাচনি ফলাফলকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়। নেতারা অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে তাদের দলীয় আমির মাওলানা মামুনুল হককে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।
পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে নেতারা আশা প্রকাশ করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে একটি দায়িত্বশীল, স্থিতিশীল ও জনমুখী রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। তারা আরও বলেন, গণভোট-উত্তর ঘোষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলীয় এজেন্ডা নয়, সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের সরাসরি রায়কে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত ফলাফল কারচুপির মাধ্যমে তাদের দলীয় আমির মাওলানা মামুনুল হককে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। রিকশা প্রতীকের অসংখ্য বৈধ ভোটকে অবৈধ ঘোষণা, বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল শিটে ওভাররাইটিং ও ভোটসংখ্যা পরিবর্তন এবং চূড়ান্ত ফলাফল বিকৃতির মাধ্যমে সেখানে প্রকাশ্য ‘রেজাল্ট ডাকাতি’ সংঘটিত হয়েছে।
তারা আরও জানান, অধিকাংশ কেন্দ্রে রিকশা প্রতীক এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই ফলাফল লেখায় কারচুপি শুরু হয়। রাত ১১টার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মাওলানা মামুনুল হকের বিজয়ের সংবাদ প্রচার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংশোধিত ফলাফল পাঠানো হয়, যা গভীর ষড়যন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ। এই অবস্থায় তিনি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ ও ফলাফল স্থগিতের আবেদন জানালেও তড়িঘড়ি করে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা এবং দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন কমিশনের কাছে এ ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আদালত ও আন্দোলন—উভয় পথ অবলম্বন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সারাদেশে অরাজকতা, রাহাজানি ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘরে আক্রমণ, ভাঙচুর এবং অনেকের আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এসব সহিংসতা বন্ধ, সংগঠিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও রাজনৈতিক সহনশীলতা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানায় দলটি।
দলের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























