বাংলাদেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখেই তাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে তার দলকে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেওয়ায় দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান তারেক রহমান। এরপর তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
বিএনপির পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি বহুপাক্ষিকতার নীতি অনুসরণ করে। আমরা কোনো দেশ-কেন্দ্রিক নীতিতে বিশ্বাসী নই। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। বাংলাদেশের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ।
আইসিটি সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান এটিকে বিচার বিভাগের বিষয় উল্লেখ করে বলেন, আমরা বিচার বিভাগকে নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে পৃথক দেখতে চাই।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন সহজ হবে না’—এমন মন্তব্য তিনি আগে করেছিলেন। এখন নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসাই ছিল আমাদের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’। এই কাজে আমরা সফল হয়েছি। জনগণের আস্থা অর্জন করে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। যেকোনো ভালো কাজ বা লক্ষ্য অর্জনে কষ্ট করতে হয়, কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়।
ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে তিনি আগেই উত্তর দিয়েছেন। এরপরও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বিস্তারিত বলতে বলেন। আমীর খসরু তার আগের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই আমাদের পররাষ্ট্রনীতি প্রণীত হবে।
সরকারের অগ্রাধিকারমূলক চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তিনি অভিযোগ করেন, গত সরকার দেশের সকল প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করেছে, যা থেকে বেরিয়ে এসে আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
যুবকদের জন্য তার পরিকল্পনা জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, আমরা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছি। যুবসমাজসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের বিষয়ে আমরা কাজ করব। আমাদের দলের ইশতেহারে যুবক, নারী, প্রতিবন্ধীসহ সকলের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতা ফোরাম (সার্ক) এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কী করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, সার্ক বাংলাদেশের উদ্যোগেই গঠিত হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই আমরা সার্ককে সক্রিয় করতে চাই এবং এ বিষয়ে আলোচনা করব। শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সকল দেশের সঙ্গেই আমরা পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পর্ক গড়ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চীনা বন্ধুদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে দুই দেশ আরও নিবিড়ভাবে কাজ করবে।
দেশের অর্থনীতি সচল রাখার কৌশল সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, আরও বেশি ব্যবসা-বাণিজ্য উৎসাহিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধের বিষয়ে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আমরা নিশ্চিত করব যেন আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে।
আওয়ামী লীগের বিষয়ে তাদের অবস্থান কী হবে—এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই আমরা এ বিষয়ে কাজ করব। বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে তার পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি ইশতেহার দেখতে বলেন। তারেক রহমান বলেন, আমরা একটি গণতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে সবাই যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানের পাশে উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























