সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক প্রার্থী তাদের নির্বাচনি জামানত হারিয়েছেন। ভোটের মাঠে প্রার্থীর জয়-পরাজয় যেমন আলোচনার বিষয়, তেমনি জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। কিন্তু কী এই জামানত, কেনই বা এটি বাজেয়াপ্ত হয় এবং এর আইনি প্রক্রিয়া কী—এসব নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা।
জামানত কী?
নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা দিতে হয়। এই অর্থই নির্বাচনি জামানত নামে পরিচিত। এটি মূলত নির্বাচনের প্রতি প্রার্থীর দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতা নিশ্চিত করার একটি পদ্ধতি।
কেন জামানত বাজেয়াপ্ত হয়?
নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী যদি তার আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের শতকরা ১২.৫ ভাগ বা তার বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত হয়। অর্থাৎ, ন্যূনতম এই সংখ্যক ভোট না পেলে প্রার্থীর জমা দেওয়া টাকা সরকারি কোষাগারে চলে যায়। এবারের সংসদ নির্বাচনেও অনেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে, যদিও মোট কতজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, সেই তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।
বিভিন্ন নির্বাচনের জামানতের অঙ্ক:
নির্বাচনের ধরন অনুযায়ী জামানতের অঙ্ক ভিন্ন হয়। বর্তমানে সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একজন প্রার্থীকে ২৫ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এই অঙ্ক ১০ হাজার টাকা। পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী জামানতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়:
২৫ হাজার পর্যন্ত ভোটার এলাকায়: ১৫ হাজার টাকা
২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ভোটার এলাকায়: ২০ হাজার টাকা
৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ভোটার এলাকায়: ২৫ হাজার টাকা
১ লাখের বেশি ভোটার এলাকায়: ৩০ হাজার টাকা
পৌরসভার কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য জামানত পাঁচ হাজার টাকা।
এছাড়া, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে এক হাজার টাকা জামানত রাখা বাধ্যতামূলক।
জামানত বাজেয়াপ্ত হলে কী হয় এবং ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া:
জামানত বাজেয়াপ্ত হলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে। নির্বাচন কমিশন জামানত হারানো প্রার্থীদের একটি তালিকা তৈরি করে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে অর্থ সরকারি তহবিলে স্থানান্তরিত হয়।
অন্যদিকে, যেসব প্রার্থী নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পেয়ে জামানত হারাননি, তারা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থ ফেরত পেতে পারেন। এক্ষেত্রে, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিস বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়।
বিশেষ ক্ষেত্রে, যদি কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় বাতিল হয়ে যায়, তবে তিনি তার জামানতের অর্থ ফেরত পান, এমনকি ভোট না পেলেও। জামানত ফেরত পাওয়ার জন্য সাধারণত নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয়। এই সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে অর্থ সরকারি কোষাগারে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
রিপোর্টারের নাম 





















