ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৩০ আসনে কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের, ফল স্থগিত ও পুনর্গণনার দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব আসনের ভোটের ফলাফল স্থগিত করে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা করলেও সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রেই কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে। ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আমরা আগেও জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩০টি আসনে এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করেছি। এসব আসনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপি সুস্পষ্ট। এমনকি, সরবরাহকৃত রেজাল্ট শিটগুলোতেও ওভাররাইটিং ও ঘষামাজার মতো ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের দিনও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব বিষয় অবহিত করেছিলাম। কিছু আসনে ফল দ্রুত প্রকাশ করা হলেও, ঢাকার কয়েকটি আসনসহ বেশ কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে, যেখানে ভোর ৫টায় গিয়েও আমাদের প্রার্থীরা ফলাফল পেয়েছেন।

জামায়াতের এই মুখপাত্র জানান, যেসব আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং ব্যাপক অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ফল পুনর্গণনার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং জামায়াত সেই পথে হাঁটবে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাদের প্রার্থী, সমর্থক, এজেন্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে নারী কর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে, যার তথ্য আমরা নিয়মিত সংগ্রহ করছি। গণমাধ্যমেও এসব সহিংসতার খবর উঠে আসছে। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এবং গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা গেছেন এমন উদাহরণও রয়েছে।

তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মৃত্যু ও আহতের তথ্য উল্লেখ করে একটি সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ মান্নান অভিযোগ করেন, তার আসনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরশাদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মুন্সীগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে কিশোরসহ দুইজনের প্রাণহানি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৩০ আসনে কারচুপির অভিযোগ জামায়াতের, ফল স্থগিত ও পুনর্গণনার দাবি

আপডেট সময় : ০৬:৫৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০টি আসনে ভোট কারচুপি ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এসব আসনের ভোটের ফলাফল স্থগিত করে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মুখপাত্র এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা করলেও সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনে অনেক ক্ষেত্রেই কারচুপি ও জালিয়াতি হয়েছে। ভোট প্রদানে বাধা দেওয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ আমরা আগেও জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩০টি আসনে এ ধরনের চরম অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম পর্যবেক্ষণ করেছি। এসব আসনে ভোট জালিয়াতি ও কারচুপি সুস্পষ্ট। এমনকি, সরবরাহকৃত রেজাল্ট শিটগুলোতেও ওভাররাইটিং ও ঘষামাজার মতো ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের দিনও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব বিষয় অবহিত করেছিলাম। কিছু আসনে ফল দ্রুত প্রকাশ করা হলেও, ঢাকার কয়েকটি আসনসহ বেশ কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে, যেখানে ভোর ৫টায় গিয়েও আমাদের প্রার্থীরা ফলাফল পেয়েছেন।

জামায়াতের এই মুখপাত্র জানান, যেসব আসনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে এবং ব্যাপক অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে, সেসব বিষয়ে স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ফল পুনর্গণনার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকেও অবহিত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এসব বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং জামায়াত সেই পথে হাঁটবে।

নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে আমাদের প্রার্থী, সমর্থক, এজেন্ট এবং ক্ষেত্রবিশেষে নারী কর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে শতাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে, যার তথ্য আমরা নিয়মিত সংগ্রহ করছি। গণমাধ্যমেও এসব সহিংসতার খবর উঠে আসছে। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে এবং গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা গেছেন এমন উদাহরণও রয়েছে।

তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় মৃত্যু ও আহতের তথ্য উল্লেখ করে একটি সহিংসতামুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. এম এ মান্নান অভিযোগ করেন, তার আসনে ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইরশাদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।