উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকা (কক্সবাজার-৪) থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি এই আসনে নিজের ধারাবাহিক জনপ্রিয়তা ও জনগণের আস্থা পুনরায় প্রমাণ করলেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট অর্জন করেছেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে শাহজাহান চৌধুরী মাত্র ১ হাজার ৫৫৯ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, উখিয়া উপজেলার ৫৪টি কেন্দ্রে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৬০ হাজার ১১ ভোট, যেখানে নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৯৩৯ ভোট। অন্যদিকে, টেকনাফ উপজেলার ৬১টি কেন্দ্রের ফলাফলে শাহজাহান চৌধুরী সংগ্রহ করেছেন ৬২ হাজার ৩৩৭ ভোট, আর নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ৬১ হাজার ১০৪ ভোট।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মোট ৩ হাজার ৮৬৬ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন বৈধ ভোট প্রদান করেছেন, এবং ৩৬টি ভোট বাতিল হয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে নুর আহমদ আনোয়ারী ১ হাজার ৯৩৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন, যেখানে শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ৫৬১ ভোট। তবে, মূল নির্বাচনী কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতেই শাহজাহান চৌধুরী চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজয়ী প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী এই অর্জনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “উখিয়া-টেকনাফের জনগণ আমাকে পঞ্চমবারের মতো যে আস্থা ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। এই বিজয় কোনো ব্যক্তির নয়, এটি উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষের বিজয়।” তিনি দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করে এই জনপদের উন্নয়ন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন এবং যারা দেননি—সবার প্রতিনিধি হিসেবে আমি কাজ করব। নির্বাচনের সময় যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।” এই বিজয় শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















