একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী মামুনুল হক ভোট গণনার সময় অনিয়ম, ফলাফলে কারচুপি এবং ব্যালট পেপারের নকশায় বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এসব অনিয়মের কারণে নির্বাচনী ফলাফল তার প্রতিকূলে গেছে এবং পুনরায় গণনা করা হলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।
শনিবার নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন। মামুনুল হক বলেন, ভোট গ্রহণের দিন সারাদিন দায়িত্ব পালনকারী পোলিং এজেন্টদের ভোট গণনার সময় আইনবহির্ভূতভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অনেক কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্টদের জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়েছে অথবা তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই একতরফাভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
তার ভাষ্যমতে, প্রকাশিত ফলাফলের একাধিক শিটে দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যায় ওভাররাইটিং (একই স্থানে একাধিকবার সিল মারা বা সংখ্যা পরিবর্তন) এবং সংখ্যা কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি একটি প্রার্থীর ভোট বাড়ানোর জন্য সুপরিকল্পিত চক্রান্ত।
ব্যালট পেপারের নকশা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রার্থী। তিনি বলেন, নয়জন প্রার্থী থাকায় ব্যালটে দুটি কলাম তৈরি করা হয়েছিল—একটি কলামে পাঁচজন এবং অন্যটিতে চারজন প্রার্থীকে রাখা হয়। এতে প্রথম কলামের শেষ সারির বিপরীতে দ্বিতীয় কলামের ঘরটি খালি থাকায় অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হয়ে ভুল স্থানে সিল মেরেছেন। এই কারণে প্রতিটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে বলে তিনি জানান। তার হিসাবে, বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১টি, যেখানে বিজয়ী ও তার প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র ২ হাজার ৩২০ ভোট।
মামুনুল হকের দাবি, বাতিল হওয়া ভোটের ৮০ শতাংশের বেশি তার প্রতীকেই পড়েছিল বলে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। তিনি ঢাকা-৮ আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, একই ধরনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতীকের পক্ষে গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে।
ভোটারের প্রকৃত অভিপ্রায় শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ঘরেই ভোট গণনা করার বিধান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওভাররাইটিং ও বাতিল ভোট—দুটো বিষয় একসাথে বিবেচনা করলে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধান তার পক্ষে আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, ফল ঘোষণার রাতেই নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























