ঢাকা ১২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত: ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোটও পাননি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনের মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এই প্রার্থীদের জামানত খোয়া গেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচায়ের পর এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, একই আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। এছাড়াও, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি জাকির হোসেন পাটওয়ারীও জামানত হারিয়েছেন।

বিস্তারিত ফলাফল ও বিশ্লেষণ:

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে, জামানত ফিরে পেতে হলে প্রার্থীদের এই আসনে সর্বনিম্ন প্রায় ২০ হাজার ৩৭০ ভোট পেতে হতো, যা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ। এই আসনের মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৩০২ জন, যার মধ্যে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৯৬২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা ৫৭.৯৩ শতাংশ।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে জামানত ধরে রাখতে হলে প্রার্থীদের অন্তত ৩৭ হাজার ১৫৮ ভোট পেতে হতো। এই আসনের মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ২৬ জন, যার মধ্যে ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৭০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৬০.১৭ শতাংশ।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানে জামানত ফিরে পেতে হলে প্রার্থীদের প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩ ভোট প্রয়োজন ছিল। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৭৩ জন, যার মধ্যে ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৬১.২৯ শতাংশ।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে জেএসডি-র তানিয়া রব ২২ হাজার ৪০ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ ২১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে জামানত ফিরে পেতে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার ১২০ ভোট পেতে হতো। আসনটির মোট ভোটার ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ১৫৮ জন, যার মধ্যে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৬৭ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৫৭.৬৩ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যারা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে মোট ২১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫: স্থগিতাদেশ চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ

লক্ষ্মীপুরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত: ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোটও পাননি

আপডেট সময় : ০১:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর জেলার চারটি আসনের মোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হওয়ায় এই প্রার্থীদের জামানত খোয়া গেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসানের স্বাক্ষরিত ভোটের ফলাফলপত্র যাচায়ের পর এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, একই আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। এছাড়াও, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ও জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহসভাপতি জাকির হোসেন পাটওয়ারীও জামানত হারিয়েছেন।

বিস্তারিত ফলাফল ও বিশ্লেষণ:

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে, জামানত ফিরে পেতে হলে প্রার্থীদের এই আসনে সর্বনিম্ন প্রায় ২০ হাজার ৩৭০ ভোট পেতে হতো, যা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ। এই আসনের মোট ভোটার ২ লক্ষ ৮১ হাজার ৩০২ জন, যার মধ্যে ১ লক্ষ ৬২ হাজার ৯৬২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা ৫৭.৯৩ শতাংশ।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে জামানত ধরে রাখতে হলে প্রার্থীদের অন্তত ৩৭ হাজার ১৫৮ ভোট পেতে হতো। এই আসনের মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৯৪ হাজার ২৬ জন, যার মধ্যে ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ২৭০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৬০.১৭ শতাংশ।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এখানে জামানত ফিরে পেতে হলে প্রার্থীদের প্রায় ৩৪ হাজার ৫৩ ভোট প্রয়োজন ছিল। আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪৭৩ জন, যার মধ্যে ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৬১.২৯ শতাংশ।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে জেএসডি-র তানিয়া রব ২২ হাজার ৪০ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের খালেদ সাইফুল্লাহ ২১ হাজার ১০৩ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে জামানত ফিরে পেতে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার ১২০ ভোট পেতে হতো। আসনটির মোট ভোটার ৪ লক্ষ ১৮ হাজার ১৫৮ জন, যার মধ্যে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯৬৭ জন ভোট দিয়েছেন, যা ৫৭.৬৩ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, যারা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনে মোট ২১ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।