ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াত আমিরের তীব্র নিন্দা, দায়ীদের বিচারের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নিরীহ মানুষ ও ভোটারদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, কারো পক্ষ থেকেই নয়।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির এই নিন্দা জানান। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থকবৃন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতাদর্শের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে সংহতি প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে জাতি কেবল তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ এখনো জীবিত। জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, আর কোনো স্বৈরাচার নয় – তা রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমেই হোক বা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়াতেই হোক। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং তারা আর কখনো ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।

জামায়াত আমির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিশ্চিত করতে, যেন কোনো নাগরিককে বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হতে হয়। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করার ওপরও তিনি জোর দেন।

তিনি জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান, দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যেতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে, সংহতি প্রকাশ করতে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করতে। ছবি, ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিতে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করতে, প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করার পরামর্শও দেন তিনি, যাতে সত্য জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হয়।

আসন্ন সরকারের প্রতিও তার বার্তা পরিষ্কার: জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। তিনি মনে করিয়ে দেন, সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে তার এই অঙ্গীকারকে যেন কেউ দুর্বলতা মনে না করেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে এবং এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। পরিশেষে তিনি প্রিয় দেশের নিরাপত্তা ও হেফাযতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিবির ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’: সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কদের জন্য বিশেষ সম্মান ও চিকিৎসা সুবিধা

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় জামায়াত আমিরের তীব্র নিন্দা, দায়ীদের বিচারের দাবি

আপডেট সময় : ০১:৩৯:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নিরীহ মানুষ ও ভোটারদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন, বাংলাদেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, কারো পক্ষ থেকেই নয়।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জামায়াত আমির এই নিন্দা জানান। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থকবৃন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতাদর্শের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, তাদের পাশে সংহতি প্রকাশ করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যে জাতি কেবল তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ এখনো জীবিত। জুলাই সনদে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল, আর কোনো স্বৈরাচার নয় – তা রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমেই হোক বা কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়াতেই হোক। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এবং তারা আর কখনো ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।

জামায়াত আমির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিশ্চিত করতে, যেন কোনো নাগরিককে বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হতে হয়। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করার ওপরও তিনি জোর দেন।

তিনি জামায়াতের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান, দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যেতে, তাদের পাশে দাঁড়াতে, সংহতি প্রকাশ করতে এবং প্রমাণ সংগ্রহ করতে। ছবি, ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিতে এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে শেয়ার করতে, প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করার পরামর্শও দেন তিনি, যাতে সত্য জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হয়।

আসন্ন সরকারের প্রতিও তার বার্তা পরিষ্কার: জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়, এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। তিনি মনে করিয়ে দেন, সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে তার এই অঙ্গীকারকে যেন কেউ দুর্বলতা মনে না করেন। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ‘জুলাই বিপ্লব’ মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে এবং এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। পরিশেষে তিনি প্রিয় দেশের নিরাপত্তা ও হেফাযতের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।