ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সংসদে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছিল না। বরং দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে সুসংহত করা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জামায়াত একটি নীতিবান ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক দল হিসেবে সংসদে সরকারের ওপর যথাযথ নজরদারি রাখবে এবং জাতীয় উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে। নীতি ও আদর্শের রাজনীতিতে জামায়াত সবসময় অটল থাকবে বলেও তিনি জানান।
নির্বাচনে দলের ফলাফল বিশ্লেষণ করে জামায়াত আমির জানান, এবারের নির্বাচনে ৭৭টি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে সংসদে দলটির প্রতিনিধিত্ব পূর্বের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়েছে। তিনি একে কোনো বিপর্যয় মনে না করে বরং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেন। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নির্বাচনের ফলে যারা ব্যথিত বা হতাশ হয়েছেন, তাদের মনে রাখা উচিত যে আপনাদের শ্রম ও ত্যাগ বৃথা যায়নি। জামায়াত এখন দেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।”
নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের এই সাহসিকতা দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।
রাজনীতির পরিবর্তনশীল ধারার উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসন পেলেও দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় তারা আজ সরকার গঠনের পর্যায়ে পৌঁছেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি সমর্থকদের ধৈর্য ধারণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে আগামীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। ভবিষ্যতে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রমাণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 
























