একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশজুড়ে সহিংসতা, ভাঙচুর এবং ভোটের ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, নির্বাচনের দিনে বড় ধরনের রক্তপাত এড়ানো গেলেও ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “শুধু বিরোধী জোট নয়, বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কারণেও হামলা, মারধর ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং দেশে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, বিএনপি’র এক বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন এবং এনসিপি যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, প্রায় সবখানেই তাদের নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন।
এনসিপি ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছয়টিতে জয়লাভ করেছে বলে জানিয়েছে। দলটির প্রাপ্ত মোট ভোট ২২ লাখ ৭০ হাজার ৩২, যা কাস্টিং ভোটের সাড়ে তিন শতাংশ। বিজয়ী ছয় প্রার্থীকে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে। তবে, অন্তত তিনটি আসনে ফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলেছে এনসিপি। তাদের ভাষ্যমতে, ঢাকা-৮, পঞ্চগড়-১ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে ফল আটকে রাখা, একাধিকবার গণনা এবং কারচুপির মাধ্যমে অল্প ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়েছে। এই আসনগুলোতে পুনর্গণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে বলেও মুখপাত্র জানান।
রাতের নাটকীয়তা ও ফলাফলে বিলম্বের অভিযোগ:
এনসিপির অভিযোগ, ভোটগ্রহণ শেষে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে ফলাফলে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা যায়। কিছু কেন্দ্রে ফল প্রকাশ বিলম্বিত হয় এবং কোথাও কোথাও কেন্দ্র ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তার অভিযোগ, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে গণনা শেষ হওয়ার পরও গভীর রাতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫ এবং ঢাকা-১৭ আসনের ফল ঘোষণায় ‘অসংগতি’ ছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, সারাদেশে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ও সংসদ সদস্যদের শপথ প্রসঙ্গে:
সংবাদ সম্মেলনে গণভোট প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র। তার দাবি, গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই গণরায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছাড়া সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়া উচিত নয়।
রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি:
ফল ঘোষণার পর হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। কিন্তু যদি বিরোধী মতের ওপর হামলা-দমন চলতে থাকে, তাহলে ১১ দলীয় জোট কঠোর রাজপথের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।” দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের পর যারা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























