ঢাকা ০৬:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা: আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৪ উপদেষ্টাও

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া দলটির নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি বড় চমক হিসেবে থাকছেন একঝাঁক তরুণ মুখ। একইসঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টাকেও টেকনোক্র্যাট হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গতিশীল প্রশাসন গড়ে তোলাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে দলের অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও জনবান্ধব তরুণ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, মন্ত্রিসভা গঠনের পুরো বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকাটি স্পষ্ট হবে।

আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টা
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টাকে নতুন সরকারে রাখার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বিএনপি। তারা হলেন— আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দেশের স্বার্থে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে। তবে আসিফ নজরুলের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো সদস্যের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিজ্ঞদের ওপর বড় ভরসা
বিগত সরকারের অভিজ্ঞ ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের ওপর আবারও আস্থা রাখছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাসকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমেদ বড় কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিসভায় আরও থাকছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অন্যদিকে, প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন মুখ ও টেকনোক্র্যাট চমক
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় একাধিক নতুন ও তরুণ মুখ যুক্ত করছে বিএনপি। এর মধ্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। টেকনোক্র্যাট কোটায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। এছাড়া তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোচনায় এগিয়ে আছেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার
আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সহযোগীদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছিল, তার প্রতিফলন থাকছে এবারের মন্ত্রিসভায়। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর এবং ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। এই মন্ত্রিসভার আকার ও সদস্য সংখ্যা জনআকাঙ্ক্ষা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে নির্ধারিত হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা: আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের ৪ উপদেষ্টাও

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। দীর্ঘ দেড় দশক পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে যাওয়া দলটির নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি বড় চমক হিসেবে থাকছেন একঝাঁক তরুণ মুখ। একইসঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টাকেও টেকনোক্র্যাট হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো আলোচনা চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও গতিশীল প্রশাসন গড়ে তোলাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে দলের অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষিত ও জনবান্ধব তরুণ নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন জ্যেষ্ঠ সদস্য জানান, মন্ত্রিসভা গঠনের পুরো বিষয়টি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই চূড়ান্ত তালিকাটি স্পষ্ট হবে।

আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের চার উপদেষ্টা
গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চার উপদেষ্টাকে নতুন সরকারে রাখার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বিএনপি। তারা হলেন— আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। দেশের স্বার্থে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে। তবে আসিফ নজরুলের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির কোনো কোনো সদস্যের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিজ্ঞদের ওপর বড় ভরসা
বিগত সরকারের অভিজ্ঞ ও ক্লিন ইমেজের নেতাদের ওপর আবারও আস্থা রাখছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং মির্জা আব্বাসকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কক্সবাজার থেকে নির্বাচিত সালাহউদ্দিন আহমেদ বড় কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বলে জোরালো গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পররাষ্ট্র অথবা বাণিজ্য এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। মন্ত্রিসভায় আরও থাকছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। অন্যদিকে, প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম খানকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নতুন মুখ ও টেকনোক্র্যাট চমক
ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় একাধিক নতুন ও তরুণ মুখ যুক্ত করছে বিএনপি। এর মধ্যে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তথ্য ও সম্প্রচার এবং যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। টেকনোক্র্যাট কোটায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন ইসমাইল জবিউল্লাহ। এছাড়া তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জন্য আলোচনায় এগিয়ে আছেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

শরিকদের নিয়ে জাতীয় সরকার
আন্দোলনের দীর্ঘদিনের সহযোগীদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছিল, তার প্রতিফলন থাকছে এবারের মন্ত্রিসভায়। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া ড. রেজা কিবরিয়াকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এছাড়া ববি হাজ্জাজ, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর এবং ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করবেন। এই মন্ত্রিসভার আকার ও সদস্য সংখ্যা জনআকাঙ্ক্ষা এবং প্রশাসনিক প্রয়োজনে নির্ধারিত হবে।