ঢাকা ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামে বিএনপির ভূমিধস বিজয়: জামায়াতের কৌশল ব্যর্থ, গণমুখী প্রার্থীর সুবিধা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এক অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছে। জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, যা দলের জন্য এক বিরাট সাফল্য। অন্যদিকে, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করতে পারলেও, ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। দলটি মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। যদিও নির্বাচন দিন পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয়তা এবং অফলাইন ও অনলাইন প্রচারণায় জামায়াত ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই চট্টগ্রাম জুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিএনপির এই ভূমিধস বিজয়ের কারণ কী এবং প্রচারণায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও জামায়াত কেন ভোটের রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ল, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

জামায়াতের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ:

জামায়াতপন্থী পেশাজীবী নেতা এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মানজেরি খোরশেদ আলম মনে করেন, বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের ভালো ফলাফল হলেও চট্টগ্রামে তাদের বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সক্ষম হলেও, মোটাদাগে পাঁচটি কারণে তারা মানুষের ভোট ঘরে তুলতে পারেনি।”

তাঁর মতে, বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হলো ইসলামী ব্যাংকসহ এস আলম গ্রুপের দখল করা পাঁচটি ব্যাংক পুনরুদ্ধারের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির দায় জামায়াতের ওপর পড়ে। চাকরিচ্যুত হাজার হাজার কর্মীর পরিবার সরাসরি জামায়াত প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছে। এছাড়া, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নেতিবাচক প্রচারও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁরা চাকরিচ্যুত কর্মীদের দেখিয়ে প্রচার চালিয়েছে যে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে এভাবেই সবার ওপর প্রতিশোধ নেবে। এই প্রচার ভোটারদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে।

মানজেরি খোরশেদ আলম আরও উল্লেখ করেন যে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁদের অনেকেই গণমুখী ছিলেন না। বিএনপির চেয়ে জামায়াতের প্রার্থীদের ইমেজ ক্লিন থাকলেও, পরিচিতির দিক থেকে তাঁরা পিছিয়ে ছিলেন। এত বড় পরিসরে নির্বাচন না করায় অভিজ্ঞতার ঘাটতিও দেখা গেছে। প্রচারণায় মনোযোগী থাকলেও ভোটারদের টানতে পারেনি দলটি। আওয়ামী লীগের ভোটারদের ব্যাপারেও তাদের পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল না। তৃণমূলের মানুষ এখনো বড় দল বলতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকেই বোঝে। সেখানে হঠাৎ আওয়ামী লীগ না থাকায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা জামায়াত পূরণ করতে পারেনি। তবে, তিনি আশাবাদী যে এই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে জামায়াত ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভালো করবে।

বিএনপির জয়ের নেপথ্যে কারণ:

বিএনপিপন্থি পেশাজীবী নেতা এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নছরুল কদির জামায়াতের বিপর্যয়ের বিপরীতে বিএনপির সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “২০১৪ সালের পর থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জামায়াত প্রকাশ্যে রাজনীতি করেনি। তারা তাদের পরিসরে দলকে সংগঠিত করেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে তা দৃশ্যমান ছিল না। বিপরীতে, বিএনপির রাজনীতি সব সময় গণমুখী ছিল।”

অধ্যাপক নছরুল কদির আরও বলেন, “১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতন সবই বিএনপি নেতাদের ওপরই চলেছে। এগুলো ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। খালেদা জিয়ার আপসহীনতা, তারেক রহমানের ত্যাগ—এসবের ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটেছে ভোটের মাঠে।”

তিনি তারেক রহমানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন তারেক রহমান। তাঁর ব্যতিক্রমী প্রচার, স্পষ্ট বাচনভঙ্গী, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ না করে সমীহ করার মানসিকতা মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বিএনপির ৩১ দফা, জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে।”

অধ্যাপক নছরুল কদিরের মতে, আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সংবেদনশীল ভোটার, সংখ্যালঘু ভোটার এবং ডান ঘরানার কিন্তু উদারপন্থি দল হিসেবে বিএনপির ওপরই আস্থা রেখেছে।

তবে, তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বিএনপিকে এটাও ভাবতে হবে যে, নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় হলেও অনেক আসনে ভোটের ব্যবধান অনেক কম। এছাড়া, অঞ্চলভিত্তিক জামায়াতের উত্থান ও বিএনপির পরাজয় ঘটেছে। এসব আসনের ফলাফল পর্যালোচনা করে আগামী দিনের পথচলার রূপরেখা নির্ধারণ করতে হবে তারেক রহমানকে। ১৭ বছরের শূন্যতায় বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেখানে অনেক সতর্কতার সঙ্গে পথ না চললে বিজয়ের এই ধারা ধরে রাখা কঠিন হবে।”

জোট ব্যবস্থাপনা ও ভোটারদের মনোভাব:

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগের অবর্তমানে রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা ছিল। ওই শূন্যতাকে টার্গেট করেই জামায়াত মাঠে নেমেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভাসা ভোট জামায়াতের পক্ষে আসেনি। কারণ, ভোটারের এই অংশটি উগ্রতাকে পছন্দ করে না।” তিনি আরও বলেন, “যদিও এবারের নির্বাচনে জামায়াত তার কট্টর রূপ পরিহার করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ভোটারদের বড় একটি অংশ তা বিশ্বাস করেনি। এই জায়গায় সুবিধাজনক অবস্থান পেয়েছে বিএনপি।”

আখতার কবির চৌধুরী জোট ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জোট ব্যবস্থাপনায় জামায়াতের চেয়ে ভালো মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে বিএনপি। চট্টগ্রামের তিনটি আসন ছাড়তে হয়েছে জোটকে। একটিতে তো এনসিপি প্রার্থীকে ঘোষণা করেও নিজেদের প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ওই আসনে ভরাডুবি ঘটেছে দুই প্রার্থীরই। ভোটের মাঠে এই ইস্যুটিও জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।”

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামে বিএনপির বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং এটি ভোটারদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, প্রার্থীর গণমুখীতা এবং জোট ব্যবস্থাপনার এক জটিল সমীকরণের প্রতিফলন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মুন্সীগঞ্জ বার নির্বাচনে ১১ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

চট্টগ্রামে বিএনপির ভূমিধস বিজয়: জামায়াতের কৌশল ব্যর্থ, গণমুখী প্রার্থীর সুবিধা

আপডেট সময় : ০৬:৩৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি এক অভাবনীয় বিজয় অর্জন করেছে। জেলার ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, যা দলের জন্য এক বিরাট সাফল্য। অন্যদিকে, ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি করতে পারলেও, ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। দলটি মাত্র দুটি আসনে জয়ী হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। যদিও নির্বাচন দিন পর্যন্ত কর্মীদের সক্রিয়তা এবং অফলাইন ও অনলাইন প্রচারণায় জামায়াত ভোটারদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই চট্টগ্রাম জুড়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। বিএনপির এই ভূমিধস বিজয়ের কারণ কী এবং প্রচারণায় এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও জামায়াত কেন ভোটের রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়ল, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

জামায়াতের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ:

জামায়াতপন্থী পেশাজীবী নেতা এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মানজেরি খোরশেদ আলম মনে করেন, বিভিন্ন জেলায় জামায়াতের ভালো ফলাফল হলেও চট্টগ্রামে তাদের বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে ভোটারদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলতে সক্ষম হলেও, মোটাদাগে পাঁচটি কারণে তারা মানুষের ভোট ঘরে তুলতে পারেনি।”

তাঁর মতে, বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হলো ইসলামী ব্যাংকসহ এস আলম গ্রুপের দখল করা পাঁচটি ব্যাংক পুনরুদ্ধারের পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির দায় জামায়াতের ওপর পড়ে। চাকরিচ্যুত হাজার হাজার কর্মীর পরিবার সরাসরি জামায়াত প্রার্থীদের বিপক্ষে কাজ করেছে। এছাড়া, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নেতিবাচক প্রচারও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁরা চাকরিচ্যুত কর্মীদের দেখিয়ে প্রচার চালিয়েছে যে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে এভাবেই সবার ওপর প্রতিশোধ নেবে। এই প্রচার ভোটারদের ওপর যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে।

মানজেরি খোরশেদ আলম আরও উল্লেখ করেন যে, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষিত ও পেশাজীবী নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁদের অনেকেই গণমুখী ছিলেন না। বিএনপির চেয়ে জামায়াতের প্রার্থীদের ইমেজ ক্লিন থাকলেও, পরিচিতির দিক থেকে তাঁরা পিছিয়ে ছিলেন। এত বড় পরিসরে নির্বাচন না করায় অভিজ্ঞতার ঘাটতিও দেখা গেছে। প্রচারণায় মনোযোগী থাকলেও ভোটারদের টানতে পারেনি দলটি। আওয়ামী লীগের ভোটারদের ব্যাপারেও তাদের পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল না। তৃণমূলের মানুষ এখনো বড় দল বলতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকেই বোঝে। সেখানে হঠাৎ আওয়ামী লীগ না থাকায় যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা জামায়াত পূরণ করতে পারেনি। তবে, তিনি আশাবাদী যে এই অভিজ্ঞতাগুলো কাজে লাগিয়ে জামায়াত ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভালো করবে।

বিএনপির জয়ের নেপথ্যে কারণ:

বিএনপিপন্থি পেশাজীবী নেতা এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নছরুল কদির জামায়াতের বিপর্যয়ের বিপরীতে বিএনপির সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “২০১৪ সালের পর থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জামায়াত প্রকাশ্যে রাজনীতি করেনি। তারা তাদের পরিসরে দলকে সংগঠিত করেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে তা দৃশ্যমান ছিল না। বিপরীতে, বিএনপির রাজনীতি সব সময় গণমুখী ছিল।”

অধ্যাপক নছরুল কদির আরও বলেন, “১০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নির্যাতন সবই বিএনপি নেতাদের ওপরই চলেছে। এগুলো ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। খালেদা জিয়ার আপসহীনতা, তারেক রহমানের ত্যাগ—এসবের ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটেছে ভোটের মাঠে।”

তিনি তারেক রহমানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। “দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন তারেক রহমান। তাঁর ব্যতিক্রমী প্রচার, স্পষ্ট বাচনভঙ্গী, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ না করে সমীহ করার মানসিকতা মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। বিএনপির ৩১ দফা, জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করেছে।”

অধ্যাপক নছরুল কদিরের মতে, আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে সংবেদনশীল ভোটার, সংখ্যালঘু ভোটার এবং ডান ঘরানার কিন্তু উদারপন্থি দল হিসেবে বিএনপির ওপরই আস্থা রেখেছে।

তবে, তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “বিএনপিকে এটাও ভাবতে হবে যে, নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় হলেও অনেক আসনে ভোটের ব্যবধান অনেক কম। এছাড়া, অঞ্চলভিত্তিক জামায়াতের উত্থান ও বিএনপির পরাজয় ঘটেছে। এসব আসনের ফলাফল পর্যালোচনা করে আগামী দিনের পথচলার রূপরেখা নির্ধারণ করতে হবে তারেক রহমানকে। ১৭ বছরের শূন্যতায় বিএনপির কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেখানে অনেক সতর্কতার সঙ্গে পথ না চললে বিজয়ের এই ধারা ধরে রাখা কঠিন হবে।”

জোট ব্যবস্থাপনা ও ভোটারদের মনোভাব:

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) চট্টগ্রাম জেলা সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেন, “আওয়ামী লীগের অবর্তমানে রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা ছিল। ওই শূন্যতাকে টার্গেট করেই জামায়াত মাঠে নেমেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভাসা ভোট জামায়াতের পক্ষে আসেনি। কারণ, ভোটারের এই অংশটি উগ্রতাকে পছন্দ করে না।” তিনি আরও বলেন, “যদিও এবারের নির্বাচনে জামায়াত তার কট্টর রূপ পরিহার করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ভোটারদের বড় একটি অংশ তা বিশ্বাস করেনি। এই জায়গায় সুবিধাজনক অবস্থান পেয়েছে বিএনপি।”

আখতার কবির চৌধুরী জোট ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “জোট ব্যবস্থাপনায় জামায়াতের চেয়ে ভালো মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে বিএনপি। চট্টগ্রামের তিনটি আসন ছাড়তে হয়েছে জোটকে। একটিতে তো এনসিপি প্রার্থীকে ঘোষণা করেও নিজেদের প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেনি। ওই আসনে ভরাডুবি ঘটেছে দুই প্রার্থীরই। ভোটের মাঠে এই ইস্যুটিও জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।”

সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামে বিএনপির বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং এটি ভোটারদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, প্রার্থীর গণমুখীতা এবং জোট ব্যবস্থাপনার এক জটিল সমীকরণের প্রতিফলন।