দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে বিজয়ী হওয়ার দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল শুক্রবার ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণ শেষে রাজধানীর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে সব আসনে ‘বিজয়ী’ ঘোষণা না করলেও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিএনপি নিশ্চিত যে, তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। বিএনপির পাশাপাশি তাদের নির্বাচনি জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয়ী হয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব বিএনপি এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে। এই বিজয়ের জন্য মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যমকেও ধন্যবাদ জানান। তিনি মন্তব্য করেন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণেই বিএনপির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে, যার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বক্সে।
নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শতভাগ আদর্শ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার সহিংসতা অনেক কম ছিল। তবে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভোটারদের মধ্যে যে অনাগ্রহ তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি কাটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফল স্থগিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ তুললে তা প্রমাণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির।
এদিকে এই জয়কে ‘গণতন্ত্রের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের আপামর জনসাধারণের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। তৃণমূল মানুষের আস্থার এই রাজনৈতিক দলটি স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের ধারক। এই নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, তা এক অপ্রতিরোধ্য নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করেছে। এটি শুধু দলের নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের বিজয়।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মাহদী আমীন বলেন, জনগণের এই বিপুল জনসমর্থন প্রমাণ করে যে তারা তারেক রহমানের নেতৃত্বের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল। ইনশাল্লাহ, ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করবেন। আগামী দিনে বিএনপি একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হওয়া শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই এই বিজয় অর্জিত হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ।
নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। এছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন এবং গণঅধিকার পরিষদ একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। অন্যদিকে জামায়াত সমর্থিত জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























