ঢাকা ০১:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ঋতুরাজ বসন্তের আবাহন ও ভালোবাসার যুগলবন্দি: উৎসবের রঙে ভাসছে দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

শীতের জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতিতে আজ লেগেছে ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া। আজ পহেলা ফাল্গুন। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় সেজেছে চারপাশ। কোকিলের কুহুতান আর দখিনা বাতাসের মৃদু হিল্লোল জানান দিচ্ছে—আসে বসন্ত। বাঙালির যাপিত জীবনে বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের স্পন্দন, পূর্ণতা আর উৎসবের আমেজ।

এবারের পহেলা ফাল্গুন এক ভিন্ন মাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছে। বাংলা পঞ্জিকার পরিবর্তনের ফলে বসন্তের প্রথম দিন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ মিলেমিশে একাকার। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৪ ফেব্রুয়ারি আর ফাল্গুনের শুরু—এই দুই উৎসবের মেলবন্ধনে রাজধানীসহ সারা দেশেই বইছে আনন্দের জোয়ার। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পোশাকে ও সাজে আজ বসন্তের হলদে-বাসন্তী আর ভালোবাসার লাল রঙের আধিপত্য। তবে নির্বাচনের কারণে অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবার বইমেলা প্রাঙ্গণে সেই চিরচেনা ভিড় ও আড্ডার অভাব অনুভব করছেন অনেকে।

বসন্ত ও ভালোবাসার এই উৎসবের সমান্তরালে দিনটি বহন করছে এক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিলেন জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, দিপালী ও কাঞ্চনসহ আরও অনেকে। সেই বীর শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন আজ ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবেও পালন করছে।

অন্যদিকে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’-এর পেছনে রয়েছে আত্মত্যাগের এক প্রাচীন ইতিহাস। খ্রিষ্টীয় ২৭০ অব্দে রোমান সম্রাট গথিকাসের আদেশে খ্রিষ্টান পাদ্রি সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সম্রাট প্রেমের পরিপন্থী হলেও ভ্যালেনটাইন ছিলেন ভালোবাসার পক্ষে। মৃত্যুর আগে তিনি তার কারারক্ষীর মেয়ের উদ্দেশে একটি চিরকুট লিখে যান, যার শেষে লেখা ছিল— ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ঋতুরাজকে বরণ করে নিতে আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত চত্বরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। ভোরের আলো ফুটতেই বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়া বসন্ত কথন, প্রীতি বন্ধনী ও আবির বিনিময়ের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবেন সংস্কৃতিমনা মানুষ।

উৎসবে দলীয় সংগীতে অংশ নিচ্ছে রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীসহ বেশ কিছু প্রথিতযশা সংগঠন। নৃত্যের ছন্দে দর্শক মাতাতে আসছে কথক নৃত্য সম্প্রদায়, ধৃতি নর্তনালয়, ভাবনা ও স্পন্দনের মতো দলগুলো। একক কণ্ঠে গান শোনাবেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অনিমা রায়, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রিসহ বরেণ্য শিল্পীরা। আবৃত্তির মোহময় উপস্থাপনায় থাকবেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও বেলায়েত হোসেনের মতো বিশিষ্ট বাচিক শিল্পীরা। সব মিলিয়ে উৎসবের রঙে আজ বর্ণিল হয়ে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি ও জনপদ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীর কাটাখালীতে অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষতি

ঋতুরাজ বসন্তের আবাহন ও ভালোবাসার যুগলবন্দি: উৎসবের রঙে ভাসছে দেশ

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শীতের জীর্ণতা সরিয়ে প্রকৃতিতে আজ লেগেছে ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়া। আজ পহেলা ফাল্গুন। পলাশ, শিমুল আর কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় সেজেছে চারপাশ। কোকিলের কুহুতান আর দখিনা বাতাসের মৃদু হিল্লোল জানান দিচ্ছে—আসে বসন্ত। বাঙালির যাপিত জীবনে বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের স্পন্দন, পূর্ণতা আর উৎসবের আমেজ।

এবারের পহেলা ফাল্গুন এক ভিন্ন মাত্রা নিয়ে হাজির হয়েছে। বাংলা পঞ্জিকার পরিবর্তনের ফলে বসন্তের প্রথম দিন এবং বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ মিলেমিশে একাকার। ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৪ ফেব্রুয়ারি আর ফাল্গুনের শুরু—এই দুই উৎসবের মেলবন্ধনে রাজধানীসহ সারা দেশেই বইছে আনন্দের জোয়ার। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের পোশাকে ও সাজে আজ বসন্তের হলদে-বাসন্তী আর ভালোবাসার লাল রঙের আধিপত্য। তবে নির্বাচনের কারণে অমর একুশে বইমেলা পিছিয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরের মতো এবার বইমেলা প্রাঙ্গণে সেই চিরচেনা ভিড় ও আড্ডার অভাব অনুভব করছেন অনেকে।

বসন্ত ও ভালোবাসার এই উৎসবের সমান্তরালে দিনটি বহন করছে এক ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। ১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন স্বৈরাচারী শাসনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে রাজপথে প্রাণ দিয়েছিলেন জয়নাল, জাফর, মোজাম্মেল, দিপালী ও কাঞ্চনসহ আরও অনেকে। সেই বীর শহীদদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন আজ ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবেও পালন করছে।

অন্যদিকে, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’-এর পেছনে রয়েছে আত্মত্যাগের এক প্রাচীন ইতিহাস। খ্রিষ্টীয় ২৭০ অব্দে রোমান সম্রাট গথিকাসের আদেশে খ্রিষ্টান পাদ্রি সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সম্রাট প্রেমের পরিপন্থী হলেও ভ্যালেনটাইন ছিলেন ভালোবাসার পক্ষে। মৃত্যুর আগে তিনি তার কারারক্ষীর মেয়ের উদ্দেশে একটি চিরকুট লিখে যান, যার শেষে লেখা ছিল— ‘ফ্রম ইউর ভ্যালেনটাইন’। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ঋতুরাজকে বরণ করে নিতে আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্মুক্ত চত্বরে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। ভোরের আলো ফুটতেই বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীদের যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এছাড়া বসন্ত কথন, প্রীতি বন্ধনী ও আবির বিনিময়ের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবেন সংস্কৃতিমনা মানুষ।

উৎসবে দলীয় সংগীতে অংশ নিচ্ছে রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদ, বহ্নিশিখা, সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীসহ বেশ কিছু প্রথিতযশা সংগঠন। নৃত্যের ছন্দে দর্শক মাতাতে আসছে কথক নৃত্য সম্প্রদায়, ধৃতি নর্তনালয়, ভাবনা ও স্পন্দনের মতো দলগুলো। একক কণ্ঠে গান শোনাবেন ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অনিমা রায়, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রিসহ বরেণ্য শিল্পীরা। আবৃত্তির মোহময় উপস্থাপনায় থাকবেন ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় ও বেলায়েত হোসেনের মতো বিশিষ্ট বাচিক শিল্পীরা। সব মিলিয়ে উৎসবের রঙে আজ বর্ণিল হয়ে উঠেছে বাংলার প্রকৃতি ও জনপদ।