সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের হয়ে ২২০টিরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৮টিতে জয়লাভ করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে নির্বাচনের এই ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট নয় দলটি। তাদের দাবি, অন্তত ৫৩টি আসনে অত্যন্ত সামান্য ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীদের পরাজিত দেখানো হয়েছে। এসব আসনে সূক্ষ্ম কারচুপি না হলে জোটের মোট আসন সংখ্যা ১২০ ছাড়িয়ে যেত বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তত ৫৩টি নির্বাচনী এলাকায় জামায়াত জোটের প্রার্থীরা ১০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যবধান মাত্র কয়েকশ থেকে এক-দুই হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের কর্মীরা জাল ভোট প্রদান করায় ভোটের ফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে যদি গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি করে জাল ভোট পড়ে থাকে, তবে পুরো আসনে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধান তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। মূলত এই কৌশলেই জোটের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মাত্র ২ হাজার ৬০৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। একইভাবে ঢাকা-১০ আসনে ৩ হাজার ৩০০ এবং ঢাকা-১৭ আসনে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন জোটের প্রার্থীরা। এছাড়া ঢাকা-৭ আসনে পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৬ হাজার ১৮৩ ভোট।
সবচেয়ে কম ব্যবধানে পরাজয়ের চিত্র দেখা গেছে কক্সবাজার-৪ আসনে, যেখানে জামায়াত প্রার্থী মাত্র ৯২৯ ভোটে হেরেছেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে হারের ব্যবধান ১ হাজার ২৬ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ১ হাজার ৬১ ভোট। পিরোজপুর-২ আসনে শামীম সাঈদী ৮ হাজার ২২৮ ভোটে এবং ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হক ২ হাজার ৩২০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
দেশের অন্যান্য প্রান্তেও একই চিত্র ফুটে উঠেছে। ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ৫ হাজার ৩১০ ভোট, দিনাজপুর-৩ আসনে ৪ হাজার ৫৮৯ ভোট এবং গাইবান্ধা-৪ আসনে ৩ হাজার ৩৪ ভোটের ব্যবধানে জোটের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, যশোর, খুলনা, বরগুনা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন আসনেও পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ১০ হাজারের নিচে। ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী ৫ হাজার ২৩৯ ভোট এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থী ৭ হাজার ৯ ভোটে হেরেছেন।
জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সূত্র জানিয়েছে, তারা বর্তমানে প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছেন। যেখানেই অসঙ্গতি ও কারচুপির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, সেখানেই নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল স্থগিত ও পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাজপথেও এসব অভিযোগ নিয়ে সোচ্চার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ১১ দলীয় জোট।
রিপোর্টারের নাম 
























