ঢাকা ০৩:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদে মাত্র ৯ দলের প্রতিনিধিত্ব: আসনশূন্য ৪২টি রাজনৈতিক দল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দলই কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে, যেখানে একটি আসনের ভোট স্থগিত এবং দুটি আসনের ফল আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের জন্য হতাশার চিত্র তুলে ধরেছে।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ১১-দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়ী হয়েছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। পাশাপাশি, ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলো শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রবণতা ছোট দলগুলোর সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের পথকে সংকুচিত করেছে।

ফলে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি দলের মধ্যে মাত্র ৯টি দল এবং কিছু স্বতন্ত্র সদস্য সংসদে নিজেদের স্থান করে নিতে পেরেছেন। বাকি ৪২টি দলের জন্য এই নির্বাচন একটি হতাশার অধ্যায় হয়ে রইল।

উল্লেখযোগ্য যেসব দল কোনো আসন পায়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ ও জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএমএল, মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় দল ও জোটকেন্দ্রিক ধারা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবানন-ইসরাইল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা: ইসরাইলি সেনাপ্রধানের বক্তব্য

ত্রয়োদশ সংসদে মাত্র ৯ দলের প্রতিনিধিত্ব: আসনশূন্য ৪২টি রাজনৈতিক দল

আপডেট সময় : ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৪২টি দলই কোনো আসনে জয়লাভ করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে, যেখানে একটি আসনের ভোট স্থগিত এবং দুটি আসনের ফল আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়নি। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদে মাত্র ৯টি রাজনৈতিক দল এবং কয়েকজন স্বতন্ত্র সদস্যের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ দলের জন্য হতাশার চিত্র তুলে ধরেছে।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এছাড়া, বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী ৬৮টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ১১-দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয়ী হয়েছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন, গণ-অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস ১টি করে আসনে জয়লাভ করেছে। পাশাপাশি, ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছোট ও নতুন রাজনৈতিক দলগুলো শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও বড় দলকেন্দ্রিক মেরুকরণ, জোটভিত্তিক নির্বাচন এবং কৌশলগত ভোটিংয়ের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রবণতা ছোট দলগুলোর সংসদীয় প্রতিনিধিত্বের পথকে সংকুচিত করেছে।

ফলে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ৫১টি দলের মধ্যে মাত্র ৯টি দল এবং কিছু স্বতন্ত্র সদস্য সংসদে নিজেদের স্থান করে নিতে পেরেছেন। বাকি ৪২টি দলের জন্য এই নির্বাচন একটি হতাশার অধ্যায় হয়ে রইল।

উল্লেখযোগ্য যেসব দল কোনো আসন পায়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় পার্টি (জেপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ ও জেএসডি), জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট বাংলাদেশ, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএমএল, মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পাটি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় দল ও জোটকেন্দ্রিক ধারা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।