একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিনই ঝিনাইদহে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার জেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক সহিংস ঘটনায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এ ছাড়া মহেশপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়েও ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের নীমতলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাজার রোডে অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নির্বাচনি কার্যালয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। হামলায় কার্যালয়টি ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। এ সময় খোকন, ইভন ও জাবেদ আলী নামে তিন বিএনপি নেতাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। আহতদের মধ্যে কালীগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ আলীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রায় একই সময়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের ভিটেশ্বর গ্রামে ধানের শীষ ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আকরাম হোসেন, ফজলুর রহমান, ফারুক হোসেন, নজরুল ইসলাম ও জাফর উদ্দীনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই ইউনিয়নের খড়াশুনি গ্রামে কাপ-পিরিচ প্রতীকের সমর্থক কওসার বিশ্বাসের ওপর ধানের শীষের সমর্থকরা হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজারের খালকুলা গ্রামে ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় ধানের শীষের সমর্থক রবিউল শেখ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর (কাপ-পিরিচ প্রতীক) মোশারেফ শেখ ও ইব্রাহিম শেখসহ তিনজন আহত হন। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে, নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুর উপজেলায় মহেশপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, খবর পেয়ে বিভিন্ন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টারের নাম 





















