নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকায় নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে হাতিয়া থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন গামছাখালী এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজে গিয়েছিলেন। সেখানে ওত পেতে থাকা একদল সন্ত্রাসী অতর্কিতভাবে তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি বেধড়ক মারধরও করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত ক্যাডার আব্দুল হালিম আজাদ ওরফে পিচ্চি আজাদের অনুসারী। অভিযোগ রয়েছে, এই আজাদ ও তার দলবল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীম কর্তৃক পুনর্বাসিত হয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান পিচ্চি আজাদ, যার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে তার কিছু রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থানীয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিল এবং যিনি একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর এলাকা থেকে আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্যে বেরিয়ে এসে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুর রহমান শামীমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে।
এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনেরা ক্ষুব্ধ হন। তাদের অভিযোগ, যাদের অন্যায় অত্যাচারে হাতিয়া জনপদ কাঁপতো, তাদের জেলে না দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এর জেরে নির্বাচনের দুদিন আগে এক সমাবেশে পিচ্চি আজাদ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিশ্বাস’ কারীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দেন। সাংবাদিক মিরাজ এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করে পিচ্চি আজাদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পিচ্চি আজাদ ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী মিরাজকে একাধিকবার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্বাচনের দিন সুযোগ বুঝে পিচ্চি আজাদের অনুসারীরা মিরাজকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। স্থানীয়রা জানায়, মিরাজকে রক্তাক্ত করার পরও তারা তাকে বেধড়ক পেটায়। এসময় ভোট দিতে আসা নারীরা মানবঢাল তৈরি করে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে মিরাজকে রক্ষা করে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলার কিছুক্ষণ আগে চরঈশ্বর ইউনিয়নের গামছাখালী এলাকার নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এনসিপির শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসুদ। ওই সন্ত্রাসীরা প্রথমে হান্নানের ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিক মিরাজ সেই দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার চেষ্টা করলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। এসময় হান্নান দ্রুত এলাকা ত্যাগ করায় তার ওপর বড় ধরনের হামলা করতে পারেনি সন্ত্রাসীরা।
রিপোর্টারের নাম 





















