মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা উড়োজাহাজের জ্বালানি খরচ কমাতে এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে এক যুগান্তকারী নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। ‘ক্রসফ্লো অ্যাটেনুয়েটেড ন্যাচারাল ল্যামিনার ফ্লো’ (সিএটিএনএফএফ) নামের এই অত্যাধুনিক উইং ডিজাইন বিমানের গতি বাড়াতে এবং একই সাথে ঘর্ষণ ও বায়ু প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় করতে সক্ষম। বড় বাণিজ্যিক বিমানগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় সম্ভব হতে পারে, যা পরিবেশ সুরক্ষায়ও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।
নাসার বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ গবেষণার পর এই নতুন উইং ডিজাইন তৈরি করেছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বিমানের ডানার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুস্তরের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখা। এর ফলে বিমানের গতিপথে সৃষ্ট ঘর্ষণ ও বায়ুর বিক্ষিপ্ততা (টার্বিউলেন্স) কমে আসে। ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমালে জ্বালানি খরচও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়। সম্প্রতি, একটি গবেষণা প্লেনে এই নতুন প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। সিএটিএনএফএফ উইং ডিজাইন সংবলিত প্লেনটি সফলভাবে ঘণ্টায় ২৩১.৭৫ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা প্রমাণ করে।
নাসার গবেষকরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি বোয়িং ৭৭৭-এর মতো বড় বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে প্রয়োগ করা হলে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি শুধু এয়ারলাইনসগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করবে না, বরং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করতে বিশেষভাবে তৈরি করা ৩ ফুট উচ্চতার একটি মডেল নাসার এফ-১৫বি গবেষণা বিমানের নিচে সংযুক্ত করে বাস্তব বাতাসের মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে সম্পূর্ণ নতুন বিমান তৈরি না করেই প্রযুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। নাসা কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, প্রাথমিকভাবে বড় বাণিজ্যিক বিমানগুলোতে জ্বালানি সাশ্রয় করাই এই প্রযুক্তির প্রধান লক্ষ্য হলেও, ভবিষ্যতে এটি উচ্চ-গতির সুপারসনিক বিমানগুলোতেও ব্যবহার করা যেতে পারে, যা উড়োজাহাজ শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
রিপোর্টারের নাম 





















