ঢাকা ০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

হাড়ের নীরব ঘাতক অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধে চাই সচেতন জীবনধারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্রের এক নীরব ঘাতক হলো অস্টিওপোরোসিস, যা হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে হাড়কে এতটাই ভঙ্গুর করে তোলে যে সামান্য আঘাতেই এর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও, প্রায়শই কোনো সুনির্দিষ্ট উপসর্গ ছাড়াই এটি নীরবে হাড় ক্ষয় করতে থাকে, যার ফলে রোগীরা প্রায়শই ফ্র্যাকচার হওয়ার আগ পর্যন্ত বুঝতেও পারেন না যে তাদের হাড় দুর্বল হয়ে গেছে। এই নীরব ক্ষয়রোগ থেকে বাঁচতে সচেতন জীবনযাপন এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।

আমাদের হাড়ের ঘনত্ব মূলত কৈশোর ও তারুণ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ‘পিক বোন মাস’ হিসেবে অর্জিত হয়। এই সময় থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টি ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে হাড় ক্ষয়ের হার বাড়তে থাকে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘনত্ব কমতে শুরু করে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির ঘাটতি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এই রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়া, কোমর বা পিঠে ব্যথা এবং কবজি, শিরদাঁড়া বা নিতম্বে হাড় ভাঙার মতো ঘটনা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই হাড়ের গুরুতর ক্ষয় না হওয়া পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তাই এর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য চিকিৎসকরা ‘ডেক্সা স্ক্যান’ নামক একটি পরীক্ষা করে থাকেন, যা হাড়ের ঘনত্বের সঠিক অবস্থা নির্ণয়ে সহায়ক।

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিয়মিত ব্যায়াম। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন – দুধ, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি রাখা আবশ্যক। শুধু ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেই হবে না, তা শরীরে শোষণের জন্য ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-K2 এর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত রোদে থাকার মাধ্যমে ভিটামিন-ডির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।

এছাড়াও, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করাও জরুরি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিচ্ছিল মেঝে বা অগোছালো আসবাবপত্র এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে না যায়। মনে রাখতে হবে, একবার হিপ জয়েন্ট বা শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে গেলে তা বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই হাড়ের সুরক্ষায় কায়িক পরিশ্রম অব্যাহত রাখা এবং সচেতন জীবনযাপনই অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সায়দাবাদে মাদকবিরোধী অভিযানে পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ, চলছে চিরুনি অভিযান

হাড়ের নীরব ঘাতক অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধে চাই সচেতন জীবনধারা

আপডেট সময় : ০৪:৩৬:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্রের এক নীরব ঘাতক হলো অস্টিওপোরোসিস, যা হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে হাড়কে এতটাই ভঙ্গুর করে তোলে যে সামান্য আঘাতেই এর ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্ক নারী-পুরুষের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি দেখা গেলেও, প্রায়শই কোনো সুনির্দিষ্ট উপসর্গ ছাড়াই এটি নীরবে হাড় ক্ষয় করতে থাকে, যার ফলে রোগীরা প্রায়শই ফ্র্যাকচার হওয়ার আগ পর্যন্ত বুঝতেও পারেন না যে তাদের হাড় দুর্বল হয়ে গেছে। এই নীরব ক্ষয়রোগ থেকে বাঁচতে সচেতন জীবনযাপন এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।

আমাদের হাড়ের ঘনত্ব মূলত কৈশোর ও তারুণ্যেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, যা ৩০ বছর বয়সের মধ্যে ‘পিক বোন মাস’ হিসেবে অর্জিত হয়। এই সময় থেকেই পর্যাপ্ত পুষ্টি ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে হাড় ক্ষয়ের হার বাড়তে থাকে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ঘনত্ব কমতে শুরু করে। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে যাওয়ায় হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও প্রকট হয়। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডির ঘাটতি, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু হরমোনজনিত রোগ অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

এই রোগে আক্রান্ত হলে সাধারণত হঠাৎ উচ্চতা কমে যাওয়া, কোমর বা পিঠে ব্যথা এবং কবজি, শিরদাঁড়া বা নিতম্বে হাড় ভাঙার মতো ঘটনা দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই হাড়ের গুরুতর ক্ষয় না হওয়া পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তাই এর নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য চিকিৎসকরা ‘ডেক্সা স্ক্যান’ নামক একটি পরীক্ষা করে থাকেন, যা হাড়ের ঘনত্বের সঠিক অবস্থা নির্ণয়ে সহায়ক।

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এর মধ্যে অন্যতম হলো নিয়মিত ব্যায়াম। প্রতিদিন অন্তত আধা ঘণ্টা হাঁটা বা ভার বহনকারী ব্যায়াম হাড়কে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার যেমন – দুধ, ছোট মাছ, ডিম এবং সবুজ শাকসবজি রাখা আবশ্যক। শুধু ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলেই হবে না, তা শরীরে শোষণের জন্য ভিটামিন-ডি ও ভিটামিন-K2 এর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত রোদে থাকার মাধ্যমে ভিটামিন-ডির ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।

এছাড়াও, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ করাও জরুরি। বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঘরের পরিবেশ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিচ্ছিল মেঝে বা অগোছালো আসবাবপত্র এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে না যায়। মনে রাখতে হবে, একবার হিপ জয়েন্ট বা শিরদাঁড়ার হাড় ভেঙে গেলে তা বয়স্কদের মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই হাড়ের সুরক্ষায় কায়িক পরিশ্রম অব্যাহত রাখা এবং সচেতন জীবনযাপনই অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।