দেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত নির্বাচনের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে ৬০.২৬ শতাংশ ভোট পড়ায় দেশবাসী ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষেই রায় দিয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
সচিব আখতার আহমেদ জানান, সারা দেশের কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই ভোটের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। ফল ঘোষিত ২৯৯ আসনের সামগ্রিক ভোটের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ। গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটের হার প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ভালো থাকায় এবার ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। এই নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ২৯৯ আসনের এই ভোটে ৫০টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২,০২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এর আগে অনুষ্ঠিত গেল ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ছিল যথাক্রমে ৫৫%, ৫১.১২%, ৫৯.৫৮%, ৫৪.৯২%, ৫৫.৪৫%, ২৬.৫%, ৭৪.৯৬%, ৭৫.৫৯%, ৮৭.১৩%, ৪০.০৪%, ৮০.২০% এবং ৪১.৮%। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, এবারের নির্বাচন অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে ভালো ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পেরেছে।
একই সাথে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি ভোট, যা মোট ভোটের ৬০.২৬ শতাংশ। অন্যদিকে, ‘না’ এর পক্ষে ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি, যা ৩০ শতাংশের কম। এই ফলাফলে স্পষ্ট যে, দেশের জনগণ গণভোটের বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষেই গণরায় দিয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা নিম্নরূপ: বিএনপি ২১১টি (চট্টগ্রামের ২টি স্থগিত ফলসহ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপী) ১টি, গণ সংহতি আন্দোলন ১টি, গণ অধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ২টি, খেলাফত মজলিশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়লাভ করেছে। মোট ২৯৯টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 






















