ঝালকাঠির নলছিটিতে ভোটকেন্দ্রে আসার সময় সবার হাতে থাকে পরিচয়পত্র, কিন্তু মাসুমা হাদির হাতে ছিল এক টুকরো প্ল্যাকার্ড। ভোট দেওয়ার নাগরিক অধিকার পালনের পাশাপাশি তিনি সেখানে এসেছিলেন তার নিহত ভাই শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবি জানাতে। বৃহস্পতিবার সকালে ঝালকাঠির সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলাকালে মাসুমা হাদির হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুহূর্তের মধ্যেই কেন্দ্রের আনন্দঘন পরিবেশে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। উপস্থিত ভোটার ও পথচারীদের মনে পড়ে যায় অকালপ্রয়াত ওসমান হাদির কথা। মাসুমার এই নিরব কিন্তু জোরালো প্রতিবাদ দেখে অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং তার দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।
নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার পর আবেগজড়িত কণ্ঠে মাসুমা হাদি বলেন, ‘আমার ভাইকে হারিয়েছি আজ অনেক দিন। কিন্তু এখনো তার খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া যেমন আমার অধিকার, তেমনি বোন হিসেবে ভাইয়ের হত্যার বিচার চাওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমার ভাই হত্যার সুষ্ঠু বিচার পাব, ততক্ষণ আমাদের এই আন্দোলন ও দাবি থামবে না।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতায় হাদির পরিবার ও স্বজনরা চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 























