ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সিল মারা ব্যালট পেপারের অসংখ্য ছবি ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ভোট শেষ হওয়ার আগেই এভাবে জনসম্মুখে ব্যালটের ছবি প্রকাশ পাওয়ায় নির্বাচনের স্বচ্ছতা, গোপনীয়তা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সকাল থেকেই দেখা যায়, বিভিন্ন ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল, পেজ ও গ্রুপে ভোটারদের পছন্দের প্রতীকে সিল দেওয়া ব্যালট পেপারের ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে প্রবেশের পর ব্যালটে সিল দিয়ে সেই মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেছেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এসব পোস্টের অনেকগুলোতে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে রাজনৈতিক সমর্থন ও প্রচারণামূলক বক্তব্যও যুক্ত ছিল, যা নির্বাচনী নিরপেক্ষতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
কেবল একক ব্যালটই নয়, ইন্টারনেটে একাধিক ব্যালট পেপারের ছবিও ঘুরপাক খেতে দেখা গেছে। এই চিত্র সামনে আসার পর ভোট জালিয়াতির আশঙ্কা, ব্যালট ব্যবস্থাপনায় শিথিলতা এবং ভোটকেন্দ্রে যথাযথ নজরদারির অভাব রয়েছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
প্রচলিত নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রতিটি ভোটারের জন্য বাধ্যতামূলক। দেশের আইন অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিশেষ করে ব্যালট পেপারের ছবি তোলা বা তা প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এমন কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও কীভাবে ভোটাররা কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করলেন এবং গোপন কক্ষের ভেতরে ছবি তোলার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা এখন কাঠগড়ায়।
মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির বিষয়ে নীলফামারী-১ আসনের একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই। তিনি দাবি করেন, কোনো ভোটার যাতে মোবাইল ফোন নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছেন। তবে ভোটারদের দেহ তল্লাশি করার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, এত সতর্কতার মধ্যেও কীভাবে ছবিগুলো তোলা হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।
রিপোর্টারের নাম 
























