নীলফামারী-৪ আসনের কিশোরগঞ্জ উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উপজেলার ৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে নজরকাড়া দৃশ্য হলো নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। দল বেঁধে ভ্যানে চড়ে কেন্দ্রে আসার এই দৃশ্যকে স্থানীয়রা ‘নারী বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ উপজেলার পুঁটিমারী, বড়ভিটা, গাড়াগ্রাম, মাগুড়া ও কিশোরগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে দীর্ঘ হচ্ছে ভোটারদের সারি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দলে দলে নারীরা ভ্যানে চড়ে কেন্দ্রে আসছেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে। এদের মধ্যে অনেক পোশাক শ্রমিক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দূর-দূরান্তে বিয়ে হওয়া নারীরা রয়েছেন, যারা শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্য এলাকায় ফিরেছেন।
ভোট দিতে আসা ঢাকার বাসিন্দা শোভা জানান, দীর্ঘ সময় পর অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে ও নির্ভয়ে নিজের ভোটটি দিতে পেরে তিনি আনন্দিত। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে ভোট দিতে আসায় আনন্দের মাত্রা আরও বেড়েছে। সাফি নামের এক ভোটার জানান, গত কয়েক নির্বাচনে ভোট দিতে না পারলেও এবার সপরিবারে এসে ভোট দিয়েছেন।
ভোট দিতে ঢাকা থেকে এলাকায় আসা চিকিৎসক ডা. ইমতিয়াজ বলেন, “বিগত বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠিত হয়েছিল। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখতে এবং দেশে ন্যায়-ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে এবার ভোট দিতে এসেছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও পরিবেশ দেখে সাধারণ ভোটাররা আশ্বস্ত বোধ করছেন।”
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৭৮টি কেন্দ্রের ৪১৯টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ২ লক্ষ ২২ হাজার ৫৫২ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ১১ হাজার ৬৫৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লক্ষ ১০ হাজার ৮৯৬ জন। এছাড়া একজন হিজড়া ভোটারও রয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তকদীর আলী সরকার জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই উপজেলায় গড় ভোটের হার ছিল ৩৭.৫ শতাংশ, যেখানে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্রে এবং কেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় থাকায় ভোটাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























