ঢাকা ০৬:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

বাকলিয়ায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বাধা, সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডিসি রোডের সরু গলিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কেন্দ্রমুখী ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং লাঠিচার্জ করে বাধা সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার বড় মিয়া মসজিদ সংলগ্ন বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে তিনটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সকাল থেকে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়ছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর কেন্দ্রের দিকে যাওয়া সরু গলির মুখে কয়েকজন যুবক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের থামানোর চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, তারা নিজেদের একটি রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। সরু গলি হওয়ায় দ্রুত মানুষের ভিড় জমে যায় এবং কয়েকজন নারী ভোটারকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে কেন্দ্র তত্ত্বাবধানে থাকা সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তিনটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা প্রথমে বাধা সৃষ্টিকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু অনেকে তাতে সাড়া না দেওয়ায় সেনাসদস্যরা লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। সেনাবাহিনীর টহল দল সূত্র জানায়, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং এলাকাটি পরিষ্কার করে দেন। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা গলির মুখে দাঁড়িয়ে ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশে সহযোগিতা করেন, যার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্তত তিনজন হিন্দু ভোটার জানান, সকাল ১০টার পর ভোট দিতে এসে তারা বাধার মুখে পড়েন। একজন নারী ভোটার বলেন, “আমরা দুজন একসঙ্গে ভোট দিতে যাচ্ছিলাম। গলিতে ঢুকতেই কয়েকজন বলল—ওদিকে যাওয়া যাবে না। আমরা ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। পরে সেনাবাহিনী আসলে আমরা ভোট দিতে পারি।” আরেকজন পুরুষ ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচনের দিন ভোট দিতে এসে এমন হুমকির শিকার হবো ভাবিনি। সেনাবাহিনী না এলে হয়তো আমাদের ভোট দেওয়া হতো না।” তাদের মতে, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

চেয়ার প্রতীক সমর্থক ও স্থানীয় কর্মী ওসমান গনি অভিযোগ করে বলেন, “সকালের দিকে একটি পক্ষ বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। আমরা বিষয়টি জানালে সেনাবাহিনী এসে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয়।” তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোটারদের কেন্দ্রে আসা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে।

ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় একাধিক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের হারের হঠাৎ পরিবর্তনে। কেন্দ্র-১ এ সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৩৩.৩৫%, যা সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর দুপুর দেড়টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৪০.০১%। কেন্দ্র-২ এ সকাল সাড়ে ১১টায় ২২% ভোট পড়লেও দুপুর আড়াইটায় তা বেড়ে ৩৩% হয়। একইভাবে কেন্দ্র-৩ এ সকাল ১০টায় ১৪.৬৮% ভোট পড়লেও দুপুর ২টায় তা ৩৯.১৬% এ উন্নীত হয়। নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাধা অপসারণের পর ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সকালে বাধার প্রভাব ছিল।

দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, তিনটি কেন্দ্রেই পুরুষ, নারী ও বয়স্ক ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অনেকে জানান, সেনাবাহিনীর টহলের পর তারা নিরাপদ মনে করে ভোট দিতে এসেছেন। কেন্দ্র এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনা শুরুর পর থেকে আমরা এলাকায় সতর্ক অবস্থানে আছি। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভিভিআইপি ঘোষণা: ইউনূসের আগে কারা ছিলেন ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’

বাকলিয়ায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের বাধা, সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

আপডেট সময় : ০৬:২০:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে ডিসি রোডের সরু গলিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় কেন্দ্রমুখী ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং লাঠিচার্জ করে বাধা সৃষ্টিকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকলিয়া থানার বড় মিয়া মসজিদ সংলগ্ন বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে তিনটি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সকাল থেকে তুলনামূলকভাবে কম ভোট পড়ছিল। প্রায় ঘণ্টাখানেক পর কেন্দ্রের দিকে যাওয়া সরু গলির মুখে কয়েকজন যুবক অবস্থান নিয়ে ভোটারদের থামানোর চেষ্টা শুরু করে। অভিযোগ ওঠে, তারা নিজেদের একটি রাজনৈতিক পক্ষের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। সরু গলি হওয়ায় দ্রুত মানুষের ভিড় জমে যায় এবং কয়েকজন নারী ভোটারকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে কেন্দ্র তত্ত্বাবধানে থাকা সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তিনটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা প্রথমে বাধা সৃষ্টিকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দেন। কিন্তু অনেকে তাতে সাড়া না দেওয়ায় সেনাসদস্যরা লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। সেনাবাহিনীর টহল দল সূত্র জানায়, ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় তারা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং এলাকাটি পরিষ্কার করে দেন। পরবর্তীতে সেনাসদস্যরা গলির মুখে দাঁড়িয়ে ভোটারদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশে সহযোগিতা করেন, যার ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্তত তিনজন হিন্দু ভোটার জানান, সকাল ১০টার পর ভোট দিতে এসে তারা বাধার মুখে পড়েন। একজন নারী ভোটার বলেন, “আমরা দুজন একসঙ্গে ভোট দিতে যাচ্ছিলাম। গলিতে ঢুকতেই কয়েকজন বলল—ওদিকে যাওয়া যাবে না। আমরা ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ি। পরে সেনাবাহিনী আসলে আমরা ভোট দিতে পারি।” আরেকজন পুরুষ ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নির্বাচনের দিন ভোট দিতে এসে এমন হুমকির শিকার হবো ভাবিনি। সেনাবাহিনী না এলে হয়তো আমাদের ভোট দেওয়া হতো না।” তাদের মতে, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

চেয়ার প্রতীক সমর্থক ও স্থানীয় কর্মী ওসমান গনি অভিযোগ করে বলেন, “সকালের দিকে একটি পক্ষ বিশেষ করে হিন্দু ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। আমরা বিষয়টি জানালে সেনাবাহিনী এসে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেয়।” তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভোটারদের কেন্দ্রে আসা স্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে।

ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয় একাধিক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণের হারের হঠাৎ পরিবর্তনে। কেন্দ্র-১ এ সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছিল ৩৩.৩৫%, যা সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর দুপুর দেড়টায় বেড়ে দাঁড়ায় ৪০.০১%। কেন্দ্র-২ এ সকাল সাড়ে ১১টায় ২২% ভোট পড়লেও দুপুর আড়াইটায় তা বেড়ে ৩৩% হয়। একইভাবে কেন্দ্র-৩ এ সকাল ১০টায় ১৪.৬৮% ভোট পড়লেও দুপুর ২টায় তা ৩৯.১৬% এ উন্নীত হয়। নির্বাচন-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাধা অপসারণের পর ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ার এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সকালে বাধার প্রভাব ছিল।

দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, তিনটি কেন্দ্রেই পুরুষ, নারী ও বয়স্ক ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। অনেকে জানান, সেনাবাহিনীর টহলের পর তারা নিরাপদ মনে করে ভোট দিতে এসেছেন। কেন্দ্র এলাকায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারের পাশাপাশি সেনাসদস্যদের টহল বাড়ানো হয়েছে। নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনা শুরুর পর থেকে আমরা এলাকায় সতর্ক অবস্থানে আছি। পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।”