ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক: কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি নিয়ে প্রশ্ন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে অবতরণের পর তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এই বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে টাকা বহনের ব্যাপারে ঢাকার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পূর্বে অনাপত্তি দিয়েছিল। তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলে তারা এতে কোনো আপত্তি জানায়নি। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো বিধিনিষেধ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে, এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে যে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন বিপুল পরিমাণ অর্থসহ একজন রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হলো। আটককৃত বেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে টাকার পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে তার ব্যবসার টাকা বলে দাবি করেছেন। তিনি সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক এবং ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম। আটকের পর তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন।

পরে, টাকাসহ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, এই ঘটনাকে “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশের সাজানো নাটক” বলে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ তাদের জানিয়েছেন যে, জামায়াত নেতাকে টাকা বহনের এনওসি (No Objection Certificate) দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, নির্বাহী পরিচালক তাদের অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই বলেও নিশ্চিত করেছিলেন। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি উঠেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৪ ঘণ্টায় হামে ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭৮; স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্বেগ

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক: কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৪:৫৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে আটকের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে অবতরণের পর তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে এই বিপুল অর্থ উদ্ধার করা হয়।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে টাকা বহনের ব্যাপারে ঢাকার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পূর্বে অনাপত্তি দিয়েছিল। তিনি আরও জানান, বিষয়টি বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হলে তারা এতে কোনো আপত্তি জানায়নি। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো বিধিনিষেধ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে, এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে যে, কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন বিপুল পরিমাণ অর্থসহ একজন রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হলো। আটককৃত বেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে টাকার পরিমাণ প্রায় ৬০ লাখ বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটিকে তার ব্যবসার টাকা বলে দাবি করেছেন। তিনি সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক এবং ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম দবিরুল ইসলাম। আটকের পর তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে ছিলেন।

পরে, টাকাসহ আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে, এই ঘটনাকে “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশের সাজানো নাটক” বলে অভিহিত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক বিমানবাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ তাদের জানিয়েছেন যে, জামায়াত নেতাকে টাকা বহনের এনওসি (No Objection Certificate) দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও জানান, নির্বাহী পরিচালক তাদের অভ্যন্তরীণ রুটে অর্থ পরিবহনে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই বলেও নিশ্চিত করেছিলেন। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি উঠেছে।