ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে অভিহিত করেছে দলটি। জামায়াতের অভিযোগ, একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
বুধবার দুপুরে মগবাজারস্থ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, বিমানবন্দারের মতো একটি সংবেদনশীল স্থানে একজন বয়স্ক নেতাকে এভাবে আটক করে জামায়াতকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চলছে।
জুবায়ের জানান, আটকের পর বেলাল উদ্দিনকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। অবিলম্বে তার মুক্তি ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান জামায়াত নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, জেলা আমির নিজেই স্পষ্ট করেছেন যে, ব্যাংক বন্ধ থাকায় লেনদেনের সুবিধার্থে তার কাছে কিছু নগদ টাকা ছিল। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে এই অর্থ বহন করা অস্বাভাবিক নয়। এটি কোনো অপরাধমূলক কাজ নয়, অথচ এটিকে কেন্দ্র করে একটি নাটক সাজানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী তার সকল কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করে। কিন্তু দলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়ে, একটি বিশেষ মহল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশের সহায়তায় জামায়াতকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একের পর এক অপকৌশল চালাচ্ছে।
জুবায়ের পূর্বের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, এর আগেও জামায়াত আমিরের মেহেরপুর সফরকালে তার গাড়িতে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার এক ঘণ্টা পরই তা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদীরা এমন আচরণ করত। এখন নির্বাচন বানচালের জন্য কেউ যদি নতুন করে ফ্যাসিবাদী আচরণ করে, তবে জনগণ সঙ্গে নিয়ে তা দৃঢ়ভাবে মোকাবেলা করা হবে।
এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং নারী কর্মীদের হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রশাসনের একাংশ একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। অতীতে যারা এমন কাজ করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। নতুন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ করে, তবে তাদেরও জনরোষের শিকার হতে হতে পারে। জামায়াত নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিংকালে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হালিম, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমানসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 

























