আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। দীর্ঘ প্রচার-প্রচারণা এবং গণসংযোগ শেষে তারা এখন ভোটকেন্দ্র ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সারছেন। সর্বশেষ করণীয় ঠিক করতে জোটের নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটদানের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, জনগণের ব্যাপক আগ্রহ ও সমর্থনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে জামায়াত জোটের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হবেন। তবে, নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের কিছু সদস্যের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াত নেতারা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও, সমাধানে কিছুটা অনীহা ও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করছে জামায়াতে ইসলামী। জোটগতভাবে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ মোট ২২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া, সাতটি দলের প্রার্থীরা জোটের হয়ে ৭৪টি আসনে লড়ছেন। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, খেলাফত মজলিস ১০, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চার, এবি পার্টি তিন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুটি এবং নেজামে ইসলাম পার্টির একটি আসনে একক প্রার্থী রয়েছেন। আটটি আসনে একাধিক দলের প্রার্থী উন্মুক্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের সম্মানে একটি আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শেরপুর-৩ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুতে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), খেলাফত আন্দোলন এবং লেবার পার্টি কোনো প্রার্থী ছাড়াই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শরিক হিসেবে কাজ করছে। যদিও খেলাফত আন্দোলনের সাতজন প্রার্থী বিভিন্ন আসনে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে।
প্রার্থীদের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। এখন ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত, ভোটার স্লিপ বিতরণ, কেন্দ্রের দায়িত্ব বণ্টন এবং প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা সহ অন্যান্য কাজ চলছে। তিনি বলেন, “বেশ কয়েকটি স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়া গণসংযোগ শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া আমরা পেয়েছি। সুষ্ঠু ভোট হলে আমাদের প্রার্থীরা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হবেন বলে আমরা আশাবাদী।”
তবে, তিনি নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বিভিন্ন স্থানে ভোটের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রশাসনের আচরণ, পক্ষপাতিত্ব, হুমকিধমকি, নির্বাচনি ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। আমরা নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি, অভিযোগ দিচ্ছি। কিছু অভিযোগ আমলে নিলেও অনেক ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তাও দলীয় ঊর্ধ্বে উঠতে পারছেন না। আমরা পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি।”
নির্বাচন ঘিরে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলীয় প্রস্তুতির বিষয়ে জুবায়ের বলেন, “জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো সন্ত্রাস ও অরাজকতা মোকাবিলার জন্য সারা দেশে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে ভোট লুট করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
নির্বাচনি মাঠের সর্বশেষ পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাকা-৬ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা নির্বাচনের ভালো প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হয়েছি। ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গেছি। এতে নবজাগরণ দেখা যাচ্ছে, সবাই পরিবর্তন চাইছেন। মানুষ চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ, তারা মুক্তি চান। আমার পক্ষে বিএনপির সমর্থকসহ সাধারণ মানুষের নীরব সমর্থন রয়েছে, যা জয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করছে।”
তবে, তিনি ভোটকেন্দ্র ঘিরে কিছু শঙ্কার কথা উল্লেখ করে বলেন, “অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের পদক্ষেপে ধীরগতি ও পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে। তবে, আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ভোটের ফলাফল পর্যন্ত মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকব।”
নির্বাচনি ওয়েবসাইট চালু:
সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। ভোটের তিনদিন আগে সোমবার রাতে দলটি এই তথ্য জানায়। ওয়েবসাইটটিতে দলের নির্বাচনি ইশতেহার, প্রার্থী পরিচিতি, ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর পরিচিতি, প্রার্থীর তথ্য, ক্যাম্পেইন কিটসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও অন্যান্য তথ্যসংবলিত ফটো ও ভিডিও গ্যালারিও রয়েছে। ওয়েবসাইটটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় তৈরি করা হয়েছে। ‘চলো একসঙ্গে গড়ি বাংলাদেশ’ শিরোনামের এই ওয়েবসাইটে ‘দাঁড়িপাল্লায়’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























