ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন জামায়াত আমির

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

জেনজি ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রায় ১৮ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি একটি উন্নত, নৈতিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার ভাষণে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ বলার ঘোষণা দেন। তিনি সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আলিঙ্গন করার আহ্বান জানান। বিপরীতে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে চিরতরে বর্জনের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি আজ কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে আসিনি; বরং তরুণ প্রজন্ম ও দেশবাসীর সঙ্গে মনের কিছু কথা ভাগাভাগি করতে এসেছি। এই দেশ যেমন মুসলমানদের, তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের।”

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ফাহাদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সাল থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিল। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে তরুণরা এখন ‘বাংলাদেশ ২.০’ দেখতে চায়।

তরুণদের আগামীর কাণ্ডারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তরুণদের সমাজের ‘ককপিটে’ বসিয়ে দিতে চাই। তারাই হবে আগামীর বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ও পাইলট, আর আমরা থাকব যাত্রীর আসনে। তরুণরা সাহসী, মেধাবী ও প্রযুক্তিপ্রেমী; তারাই পারবে একটি আধুনিক রাষ্ট্র উপহার দিতে। আমরা তাদের হাত ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচলিত পচা-গলা রাজনৈতিক ধারা বদলে দিতে চাই।”

নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে সগৌরবে আসীন থাকবেন। মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো পরিচয়ে নয়, মেধার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান তিনটি বিশেষ খাতের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, নৈতিকতা ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা; দ্বিতীয়ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ এবং তৃতীয়ত, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যাপক সংস্কার। তিনি ঘোষণা দেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিন থেকেই ফজর নামাজের পর তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। তাদের সমস্যা সমাধানে ‘ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি’ নিয়োগ এবং বিদেশের মাটিতে মৃত প্রবাসীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বন্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পররাষ্ট্র নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া কোনো উপভোগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি বড় দায়বদ্ধতা। ইনসাফ কায়েম ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাঙ্কার্স ক্লাব ক্রিকেট: রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ফাইনালে এনআরবিসি ও সিটি ব্যাংক

তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাইলেন জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১০:০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেনজি ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ এবং নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রায় ১৮ মিনিটের দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি একটি উন্নত, নৈতিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার ভাষণে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ বলার ঘোষণা দেন। তিনি সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আলিঙ্গন করার আহ্বান জানান। বিপরীতে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে চিরতরে বর্জনের অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি আজ কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে আসিনি; বরং তরুণ প্রজন্ম ও দেশবাসীর সঙ্গে মনের কিছু কথা ভাগাভাগি করতে এসেছি। এই দেশ যেমন মুসলমানদের, তেমনি হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের।”

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ফাহাদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সাল থেকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়েছিল। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে তরুণরা এখন ‘বাংলাদেশ ২.০’ দেখতে চায়।

তরুণদের আগামীর কাণ্ডারি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তরুণদের সমাজের ‘ককপিটে’ বসিয়ে দিতে চাই। তারাই হবে আগামীর বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন ও পাইলট, আর আমরা থাকব যাত্রীর আসনে। তরুণরা সাহসী, মেধাবী ও প্রযুক্তিপ্রেমী; তারাই পারবে একটি আধুনিক রাষ্ট্র উপহার দিতে। আমরা তাদের হাত ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচলিত পচা-গলা রাজনৈতিক ধারা বদলে দিতে চাই।”

নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে সগৌরবে আসীন থাকবেন। মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো পরিচয়ে নয়, মেধার ভিত্তিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।

রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শফিকুর রহমান তিনটি বিশেষ খাতের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমত, নৈতিকতা ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা; দ্বিতীয়ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগ এবং তৃতীয়ত, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনে ব্যাপক সংস্কার। তিনি ঘোষণা দেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিন থেকেই ফজর নামাজের পর তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হবে। তাদের সমস্যা সমাধানে ‘ভলান্টিয়ার প্রতিনিধি’ নিয়োগ এবং বিদেশের মাটিতে মৃত প্রবাসীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বন্ধ হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পররাষ্ট্র নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হবে।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ক্ষমতায় যাওয়া কোনো উপভোগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি বড় দায়বদ্ধতা। ইনসাফ কায়েম ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশবাসীকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য তিনি বিনীত অনুরোধ জানান।