জেনজি ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ এবং নারী সমাজের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ এক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ১৮ মিনিটের এক বিশেষ নির্বাচনি ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান তার ভাষণে একটি বৈষম্যহীন ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং পাঁচটি বিষয়ে ‘না’ বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে ‘হ্যাঁ’ এবং দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজিকে ‘না’ বলার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরুর অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে আসিনি, বরং নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।”
জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ২০০৯ সাল থেকে চেপে বসা এক স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছিল। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও আয়নাঘরের মাধ্যমে জনগণের ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তার বিরুদ্ধেই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও আবরার ফাহাদদের রক্তের বিনিময়ে আসা এই পরিবর্তনকে অর্থবহ করতে তিনি ‘বাংলাদেশ ২.০’ বা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তরুণদের নেতৃত্বের অগ্রভাগে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তরুণদের সমাজের ককপিটে দেখতে চাই। এই দেশ তারাই চালাবে, আমরা থাকব যাত্রীর আসনে।” তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় গেলে প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হবে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈতিকতা ও প্রযুক্তিনির্ভর করা, বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করা এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ব্যাপক সংস্কারের কথা জানান তিনি।
নারীর অধিকার ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারী কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বেও সগৌরবে থাকবেন। এছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের সমান অধিকার ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার করেন তিনি।
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সংসদে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, দূতাবাসগুলোতে তাদের সেবার মান বাড়ানো এবং মৃত প্রবাসীদের মরদেহ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত আমির। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি সমমর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে বন্ধুত্বের নীতি অনুসরণের কথা বলেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের আশ্বাস দেন।
ভাষণের শেষাংশে তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব একটি আমানত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে দেশবাসীর মূল্যবান ভোট ও দোয়া কামনা করেন ডা. শফিকুর রহমান।
রিপোর্টারের নাম 
























