ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিমুক্তির লড়াইয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: মামুনুল হক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, এটি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের রায় দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ দীর্ঘদিনের অন্যায়, লুটপাট ও দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর মুক্তমঞ্চে গাজীপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হকের (রিকশা প্রতীক) নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশে প্রকৃত ভোটের পরিবেশ অনুপস্থিত। রাতের আঁধারের নির্বাচন, একতরফা ও ডামি প্রার্থীর নির্বাচন হতে হতে একটি প্রজন্ম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আগে যাদের বয়স ১৮ ছিল, এখন তাদের ৩৫ – কিন্তু তারা জীবনে ভোট দিতে পারেনি।’ তবে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের গতি ধারণ করে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবার ভোটাধিকার প্রয়োগে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সন্ত্রাস ও গুন্ডামির বিরুদ্ধে, জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনা স্থায়ী করার নির্বাচন এবং বাংলাদেশ থেকে চিরতরে ফ্যাসিবাদ বিদায় করার নির্বাচন।’ মামুনুল হক দেশের রাজনীতির ওপর দুটি বড় অভিশাপের কথা উল্লেখ করেন – একটি সন্ত্রাস ও গুন্ডামি, অন্যটি লুটপাট ও দুর্নীতি। তিনি বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি করতে গিয়ে অনেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নির্বাচন করেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর সেই টাকা সুদে-আসলে জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেন।

এবারের নির্বাচনকে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার নির্বাচন দাবি করে মামুনুল হক বলেন, ‘ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলার মানুষ প্রমাণ করবে – এ দেশে আর সন্ত্রাস ও লুটপাট চলবে না।’

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এই মাটির সন্তান। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমার অঙ্গীকার। দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে আমি আপনাদের দোয়া ও ভোট প্রত্যাশা করছি।’

গাজীপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মাসউদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জাতীয় ওলামা কাউন্সিলের মহাসচিব আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, গাজীপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান মিসবাহ, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী কৌশিক আহমেদ, গাজীপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গাজী রুহুল আমিন এবং সদর উপজেলা আমীর আলাউদ্দিন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতিমুক্তির লড়াইয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন: মামুনুল হক

আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কেবল একটি ভোট নয়, এটি দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের রায় দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সুযোগ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ দীর্ঘদিনের অন্যায়, লুটপাট ও দুঃশাসনের অবসান ঘটাতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রোববার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর মুক্তমঞ্চে গাজীপুর-৩ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হকের (রিকশা প্রতীক) নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে দেশে প্রকৃত ভোটের পরিবেশ অনুপস্থিত। রাতের আঁধারের নির্বাচন, একতরফা ও ডামি প্রার্থীর নির্বাচন হতে হতে একটি প্রজন্ম তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘১৭ বছর আগে যাদের বয়স ১৮ ছিল, এখন তাদের ৩৫ – কিন্তু তারা জীবনে ভোট দিতে পারেনি।’ তবে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের গতি ধারণ করে দেশের তরুণ প্রজন্ম এবার ভোটাধিকার প্রয়োগে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুর্নীতির বিরুদ্ধে, সন্ত্রাস ও গুন্ডামির বিরুদ্ধে, জুলাইয়ের আন্দোলনের চেতনা স্থায়ী করার নির্বাচন এবং বাংলাদেশ থেকে চিরতরে ফ্যাসিবাদ বিদায় করার নির্বাচন।’ মামুনুল হক দেশের রাজনীতির ওপর দুটি বড় অভিশাপের কথা উল্লেখ করেন – একটি সন্ত্রাস ও গুন্ডামি, অন্যটি লুটপাট ও দুর্নীতি। তিনি বলেন, ক্ষমতার রাজনীতি করতে গিয়ে অনেকে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নির্বাচন করেন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর সেই টাকা সুদে-আসলে জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেন।

এবারের নির্বাচনকে শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার নির্বাচন দাবি করে মামুনুল হক বলেন, ‘ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলার মানুষ প্রমাণ করবে – এ দেশে আর সন্ত্রাস ও লুটপাট চলবে না।’

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা এহসানুল হক তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমি এই মাটির সন্তান। আপনাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমার অঙ্গীকার। দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে আমি আপনাদের দোয়া ও ভোট প্রত্যাশা করছি।’

গাজীপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মাসউদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শ্রীপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা নুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জাতীয় ওলামা কাউন্সিলের মহাসচিব আল্লামা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, গাজীপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান মিসবাহ, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য প্রকৌশলী কৌশিক আহমেদ, গাজীপুর জেলা খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গাজী রুহুল আমিন এবং সদর উপজেলা আমীর আলাউদ্দিন।