লক্ষ্মীপুর জেলায় আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত পৃথক রাজনৈতিক গণমিছিলে অংশ নেওয়ার পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে দুজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মৃতদের মধ্যে একজন জামায়াতে ইসলামীর এবং অন্যজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কর্মী বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে আব্দুস শহীদ (৬০) লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের উত্তর বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ছিলেন। অন্যদিকে, ওবায়দুল হক (৪৫) একই এলাকার আব্দুল মুনাফের ছেলে এবং বিএনপি-র সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে জেলা শহরে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিমের একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে যোগ দেওয়ার পথে আব্দুস শহীদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
একইভাবে, সন্ধ্যায় একই আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির একটি গণমিছিল বের হয়। এই মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় ওবায়দুল হক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মহসিন কবির মুরাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “শহীদ মিছিলে আসার পর অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। আমরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি।”
অন্যদিকে, লক্ষ্মীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটন জানান, “ওবায়দুল আমাদের দলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিল। সে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নিয়েছিল। অসুস্থতা বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল জানিয়েছেন, “দুটি আলাদা ঘটনায় দুজন ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। হাসপাতালে আনার পথেই তাদের মৃত্যু ঘটে। প্রাথমিক তথ্যানুসারে, দুজনেরই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।” এই দুটি মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে এটি একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























